আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি-বারাণসী বুলেট ট্রেন প্রকল্প চালু হলে উত্তরপ্রদেশের যাতায়াত ব্যবস্থায় বিরাট বদল আসতে চলেছে। এই হাই-স্পিড ট্রেন চালু হলে জেওয়ার থেকে লখনউ পৌঁছানো যাবে মাত্র ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে। আর দিল্লি থেকে লখনউ যাওয়া যাবে মাত্র ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটে। শনিবার জেওয়ারের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই কথা জানান রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, মুম্বই ও আহমেদাবাদের মধ্যে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন লাইনের কাজ ইতিমধ্যেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।
শনিবারের সভায় রেলমন্ত্রী বলেন, এই বুলেট ট্রেন চালু হলে গোটা উত্তরপ্রদেশে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে যাবে। সূত্রের খবর, তিনি জানিয়েছেন, দিল্লি থেকে লখনউ যেতে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত, তা কমে হবে মাত্র ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট। আর জেওয়ার থেকে লখনউ যাওয়া যাবে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে। রেলমন্ত্রীর কথায়, “গঙ্গার স্রোতের মতোই মসৃণ গতিতে ছুটবে এই বুলেট ট্রেন।”
মন্ত্রী আরও জানান, এই দিল্লি-লখনউ-বারাণসী করিডর শুধু যোগাযোগের সুবিধাই দেবে না, উত্তরপ্রদেশের শিল্প ও ব্যবসার ছবিও পুরোপুরি বদলে দেবে।
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে জেওয়ারের বিধায়ক ধীরেন্দ্র সিং রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নতুন নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে এই হাই-স্পিড রেলের সংযোগ রাখার অনুরোধ করেছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন থেকেই নয়ডা বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরু হয়ে গিয়েছে। জেওয়ারে ১,৩০০ হেক্টর জায়গার ওপর তৈরি এই বিমানবন্দরটি প্রথম দফায় বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ যাত্রী সামলাতে পারবে।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর এটিই এখন দিল্লির কাছাকাছি অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর। আগামী দিনে এর সব ক'টি পর্যায়ের কাজ শেষ হলে এখান থেকে বছরে প্রায় ৭ কোটি মানুষ যাতায়াত করতে পারবেন।
চলতি বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে যে সাতটি নতুন বুলেট ট্রেন প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যেই রয়েছে এই দিল্লি-বারাণসী রুটটি।
প্রায় ৮১৩ কিলোমিটার লম্বা এই লাইনে জুড়বে দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। দিল্লি-বারাণসী ছাড়াও তালিকায় রয়েছে মুম্বই-পুণে, পুণে-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি রুট।
রেলকর্তাদের আশা, দেশের রাজধানীর সঙ্গে বারাণসীর মতো এক অন্যতম প্রধান ধর্মীয় শহরের যোগাযোগ তৈরিতে এই প্রকল্প বড় ভূমিকা নেবে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রুটে দিল্লি, নয়ডা, জেওয়ার বিমানবন্দর, মথুরা, আগ্রা, ফিরোজাবাদ, ইটাওয়া, কনৌজ, রায়বেরেলি, প্রয়াগরাজ, নিউ ভাদোহী, লখনউ এবং বারাণসীর মতো স্টেশনগুলি থাকার কথা রয়েছে। এর ফলে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং শিল্প শহরগুলি একে অপরের সঙ্গে সরাসরি জুড়ে যাবে।














