আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বসতে চলেছে নীতি আয়োগের একাদশ গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে যোগ দেবেন দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের লেফটেন্যান্ট গভর্নররা। বৃহস্পতিবারের নীতি আয়োগের বৈঠকে ফোকাস উত্তরবঙ্গ। নীতি বৈঠকে যোগ দেবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


উত্তরবঙ্গের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও পরিকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে তৈরি হয়েছে বিস্তারিত প্রস্তাব। শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গে বড় শিক্ষা হাব তৈরির পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এইমস, আইআইএম ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো বড় প্রকল্পের সম্ভাবনা প্রস্তাব আকারে দেওয়া হবে। উত্তরবঙ্গের আট জেলাকে উন্নয়নের মূল স্রোতে আনার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা।

দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদার উন্নয়নে জোর। বৈঠকে শিল্প, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়েও আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। সব মিলিয়ে নীতি আয়োগের বৈঠককে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গকে ঘিরে বড় উন্নয়ন রূপরেখা তৈরি করছে রাজ্য।


এবার ফিরে দেখা যাক ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। সেবার নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে নয়াদিল্লি গিয়েছিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷ তারপরেই তৈরি হয়েছিল বিতর্ক৷ সেবার নীতি আয়োগের বৈঠকে তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা৷ দাবি করেছিলেন, অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের যেখানে ১৫-২০ মিনিট বলতে দেওয়া হয়েছে, সেখানে একমাত্র তাঁর সঙ্গেই করা হয়েছিল এমন আচরণ৷ ঘটনার পরই ঝড়ের বেগে বৈঠক ত্যাগ করে বেরিয়ে এসেছিলেন মমতা৷ বেরনোর সময় তিনি মন্তব্যছ করেছিলেন, “আর কখনও নীতি আয়োগের বৈঠকে আসব না৷” সেই কথাই আজ ফলে গিয়েছে অক্ষরে অক্ষরে।


দু’বছর পরে ফের নীতি আয়োগ কাউন্সিলের বৈঠক৷ ২০২৬ সালের ১১ জুন৷ সেখানে আবারও যোগ দেবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী৷ এবার শুভেন্দু অধিকারী৷ রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী এবার নীতি আয়োগ থেকে উন্নয়নের জোয়ার কতটা আনতে পারেন সেটাই দেখার।