আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্যক্তিগত পদের চেয়ে দেশের স্বার্থ আর ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎই সবচেয়ে বড়- শিক্ষা মন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে এ ভাবেই তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে শাহ বলেন, নিজের পদের মায়া ছেড়ে দেশের স্বার্থকে সবার আগে স্থান দেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ এই পদক্ষেপ।

সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ শাহ লেখেন, "বিজেপি কর্মীদের কাছে যে কোনও পদের চেয়ে দেশ, দেশের যুবসমাজ এবং ছাত্রছাত্রীরা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আজ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান জির ইস্তফা দেওয়াটা সেই নীতিরই প্রমাণ।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, নরেন্দ্র মোদির সরকার দেশের ছাত্রছাত্রীদের আবেগ ও ক্ষোভকে সম্মান জানায়। প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সরকার কড়া ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যাঁরা এই অনিয়মে জড়িত, তাঁদের কঠিন শাস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী যে পদক্ষেপ করেছেন, তার প্রশংসা করেন শাহ। সেই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সব ব্যবস্থার ফলে নিট পরীক্ষায় সফল ছাত্রছাত্রীরা শেষ পর্যন্ত সঠিক বিচার পাবেন।

শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্রর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন শাহ। তিনি জানান, নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করা, 'পিএম শ্রী' স্কুলের সংখ্যা বাড়ানো, ডিজিটাল শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং পরীক্ষার পদ্ধতিকে আরও ছাত্রবান্ধব করে তোলার ক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্রর ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।

উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে প্রবল ছাত্র আন্দোলনের মুখেই ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, পদত্যাগের এই ঘটনা বর্তমান রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এর মাধ্যমে সরকার বার্তা দিতে চাইছে যে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মের ভরসা ফেরাতে তারা কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না।

এই পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়াও দু'রকম। বিরোধীরা একে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বড় জয় হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতাদের দাবি- দায়িত্ব পালন এবং দেশহিতকে প্রাধান্য দেওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ধর্মেন্দ্র।