আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মিরাটে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। সুভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীটির নাম প্রিয়া। বয়স ২০ বছর। তিনি বিসিএর ছাত্রী। গত সোমবার এই ঘটনাটি জানাজানি হয়। হোস্টেল থেকে সন্ধেহজনক পরিস্থিতিতে ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করা হয়। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে দরজা না খোলায় সহপাঠীদের সন্দেহ হয়। পরে হোস্টেল কতৃপক্ষকে খবর দেওয়া হলে দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢুকে ছাত্রীকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় পান। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।   

জানা গিয়েছে, প্রিয়া বিহারের ছাপড়া জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং মিরাটের মোদিপুরম এলাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিসিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই একই প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া মৃতের ভাই বিশাল। প্রথমে বিষয়টি মৃতের ভাই লক্ষ্য করেন। তিনি তাড়াতাড়ি করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

ঘটনার খবর পেয়ে পল্লবপুরম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মৃতদেহ তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং আসল কারণ জানানো হবে। এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে ঘর থেকে কোন সুইসাইড নোট পুলিশ পাইনি বলে জানিয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে,  রিপোর্টে যদি কোনও অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পাওয়া যায় তাহলে এফআইআর দায়ের করা হবে। পুলিশ প্রিয়ার ফোন পরীক্ষা করেছে এবং কললিস্ট খতিয়ে দেখেছে। পাশাপাশি তাঁর বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাঁর কোনও মানসিক চাপ বা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না তা জানার চেষ্টা চলছে। 

প্রিয়ার ভাই বিশাল জানিয়েছে, সকাল অবধি সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকেও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি। পরে পুলিশ জানতে পারেন প্রিয়া বেশ কিছুদিন ধরে চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু চিন্তার কারণ কী সেটা এখনও অবধি স্পষ্ট নয়। মেয়ের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রিয়া একজন মেধাবী ছাত্রী ছিলেন এবং তাঁর চলাফেরায় কোনও অস্বাভাবিকতা তাঁরা লক্ষ্য করেননি। তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দিয়ে পুলিশকে সাহায্য করেছে।