আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বামী-স্ত্রীর তুমুল ঝগড়া। আর সেই ঝগড়ার মাঝেই রাগের মাথায় পাথর ছুড়েছিলেন স্বামী। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট সেই পাথর গিয়ে লাগল কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা চার বছরের ছেলের মাথায়। আচমকা আঘাতেই শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল শিশুটির। অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার লক্ষ্যম পল্লী গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত শিশুর বাবা এম রমেশ এবং মা এম মহেশ্বরীর মধ্যে মঙ্গলবার কোনও একটি বিষয় নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। বচসা চলাকালীন তা ক্রমে হাতাহাতির রূপ নেয়। রাগের মাথায় রমেশ স্ত্রীকে লক্ষ্য করে একটি পাথর ছুড়লে তা সরাসরি গিয়ে লাগে তাঁদের ছেলের মাথায়। রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বটে, কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়।

অনন্তপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার রোহিত কুমার চৌধুরী জানান, অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ নম্বর ধারায় (অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা) মামলা রুজু করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, মোবাইল ফোন কেনা নিয়ে সামান্য অশান্তি, আর তার জেরেই গেল এক তরুণী গৃহবধূর প্রাণ। গুজরাটের আরাবল্লী জেলার মোডাসায় ঘটনাটি ঘটেছে৷ এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম ঊর্মিলা খনন রিজন (২২)।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, নেপালের বাসিন্দা ওই দম্পতি মোডাসার ভবনপুর এলাকায় থাকতেন। সেখানে একটি ছোট চাইনিজ খাবারের দোকান চালিয়েই কোনওরকমে দিন যাপন করতেন তাঁরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরে একটি নতুন মোবাইলের জন্য স্বামীর কাছে বায়না করছিলেন ঊর্মিলা। কিন্তু টানাটানির সংসারে সেই আবদার মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না স্বামীর পক্ষে। এই নিয়েই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ঘটনার দিন মোবাইল কেনা নিয়ে বিবাদ চরমে ওঠে। রাগের মাথায় ঘর বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন ঊর্মিলা। আশপাশের মানুষ টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে।

ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে মোডাসা থানার পুলিশ। অভাবের সংসারে কেন এমন চরম পথ বেছে নিলেন ওই তরুণী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।