আজকাল ওয়েবডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের গন্দরবাল জেলার সোনমার্গের সারবাল এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি ভয়াবহ তুষারধস নেমে আসে। প্রবল শক্তিতে পাহাড় থেকে নেমে আসা বরফের ঢলে একাধিক বাড়ি, হোটেল ও যানবাহন ঢেকে যায়। তবে এত বড় ঘটনার পরও স্বস্তির খবর—এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা।


কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১০টা ১২ মিনিট নাগাদ জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সোনামার্গে এই তুষারধস আছড়ে পড়ে। পাহাড়ের ওপর থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ নেমে এসে আশপাশের এলাকা ও হোটেলের দিকে ধেয়ে যায়। ঘটনার সময় অনেক এলাকাই ঘন তুষারপাতের কারণে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল।


ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুহূর্তের মধ্যে বরফের স্রোত এগিয়ে এসে তার পথে থাকা ভবনগুলিকে ঢেকে ফেলছে। দৃশ্যটি আতঙ্কজনক হলেও প্রশাসন জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং আগাম সতর্কবার্তার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কর্মকর্তারা বারবার জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর নেই।”


উল্লেখযোগ্যভাবে, সোমবার থেকেই গোটা কাশ্মীর উপত্যকায় লাগাতার তুষারপাতের জেরে উচ্চমাত্রার তুষারধস সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সেই সতর্কতার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। ভারী তুষারপাতের প্রভাব পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও। মঙ্গলবার জম্মু–শ্রীনগর জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন, যার ফলে উপত্যকায় প্রবেশ ও প্রস্থান কার্যত থমকে যায়।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজিগুন্ড ও বানিহালের কাছে নব্যুগ টানেলের আশপাশে প্রচুর বরফ জমে যাওয়ায় ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ করা হয়। এর পাশাপাশি শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব উড়ান বাতিল করা হয়। মঙ্গলবার নির্ধারিত ৫৮টি ফ্লাইটের মধ্যে ২৯টি বিমান বাতিল করা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সারাদিন ধরে তুষারপাত চলতে থাকায় রানওয়ে নিরাপদভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে শত শত পর্যটক কাশ্মীর উপত্যকায় আটকে পড়েছেন।

 

 পরিস্থিতির উপর নজর রেখে উদ্ধার ও ত্রাণ বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।