আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মিনিস্ট্রি অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি শনিবার জানিয়েছে যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের শুল্কসংক্রান্ত রায় ‘নোট’ করেছে এবং এই রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন যে পদক্ষেপগুলোর ঘোষণা করেছে সেগুলোর প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, নয়াদিল্লি একদিকে আদালতের আদেশ এবং অন্যদিকে ওয়াশিংটনের নীতিগত প্রতিক্রিয়া—দুই দিকই পর্যালোচনা করে তবেই আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাতে চায়। 


মন্ত্রকের এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের শুল্ক-সংক্রান্ত রায় লক্ষ্য করেছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবিষয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনও করেছেন। মার্কিন প্রশাসন কিছু পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেছে। আমরা এই সমস্ত অগ্রগতি তাদের সম্ভাব্য প্রভাবের দিক থেকে পরীক্ষা করছি।”


এর আগে শনিবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপিত ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পারস্পরিক শুল্ক বাতিল করে দেওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ রায়টি ভারত সরকার খতিয়ে দেখবে এবং তার পরেই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রক অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রক—যে কোনও একটি দপ্তর বিস্তারিত পর্যালোচনার পর সরকারিভাবে মত প্রকাশ করবে।

 


উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট অফ দা ইউনাইটেড স্টেটস তার ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৭ সালের জরুরি আইন ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে ব্যাপক হারে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করে তাদের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। আদালত জানায়, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া এই আইনের আওতায় বিস্তৃত বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপ সাংবিধানিক নয়। এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে জরুরি আইনের ভিত্তিতে বড় আকারের বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা তৈরি হল।


তবে এই আইনি ধাক্কা সত্ত্বেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কের মৌলিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে। তিনি বলেন, “কিছুই বদলাচ্ছে না। তারা শুল্ক দেবে, আমরা দেব না। প্রধানমন্ত্রী মোদি একজন মহান নেতা… আমরা তাদের শুল্ক দিই না, তারা দেয়। আমরা সামান্য পরিবর্তন এনেছি।” ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন যে ভারত অতীতে মার্কিন পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করত এবং তার প্রশাসন সেই ভারসাম্য পুনর্গঠন করেছে।


এছাড়া ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার অনুরোধেই ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ। তার বক্তব্য, “ভারত রাশিয়া থেকে তেল নিচ্ছিল, কিন্তু আমার অনুরোধে তারা অনেকটাই কমিয়েছে, কারণ আমরা ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান চাই।” যদিও ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি যে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে কোনও সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের অনুরোধে নেওয়া হয়েছে। নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট—তাদের জ্বালানি নীতি জাতীয় স্বার্থ ও বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।

 

&t=1s
সব মিলিয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্পের আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক বাতিল হলেও তার আমলে চালু হওয়া সব শুল্ক ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়নি। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি ‘সেকশন ১২২’-এর মতো অন্যান্য আইনি বিধান ব্যবহার করে নতুন করে শুল্ক আরোপের পথ খুঁজতে পারেন। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। এই প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সমস্ত দিক বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।