আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের ইতিহাসে প্রথমবার সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এসআইআর মামলার শুনানিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কোর্ট রুমে এদিনের শুনানিতে কী কী হল, তা সাংবাদিকদের জানালেন কল্যাণ। পাশাপাশি এও জানালেন, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানির সময়সীমাও বাড়তে পারে।
এদিন কল্যাণের বক্তব্য, 'মমতা ব্যানার্জি যে পিটিশন ফাইল করেছিলেন, সেই মামলার শুনানি হয়েছে আজ। পাশাপাশি জয় গোস্বামী-সহ আরও অনেকের মামলার শুনানি হয়েছে। এই শুনানিতে মমতা ব্যানার্জি সওয়াল করেছেন। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, যতক্ষণ চান মুখ্যমন্ত্রী বলতে পারেন। চাইলে ১৫ মিনিটও বলতে পারেন। যথেচ্ছভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মাইক্রো অবজারভার ও রোল অবজারভারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করেছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'আইনে কোথাও জায়গা নেই, যে মাইক্রো অবজারভার ও রোল অবজারভারদের দায়িত্ব দেওয়া। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ছোট ছোট ভুল নির্বাচন কমিশনের। তার জন্য ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাচ্ছে। এমনকী ইআরও-দের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে, মাইক্রো অবজারভাররা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, এটাও বেআইনি। হিয়ারিং-এর জন্য আর চারদিন সময় আছে। এখনও লক্ষাধিক মানুষের হিয়ারিং হয়নি।'
কল্যাণ আরও জানিয়েছেন, 'প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে হিয়ারিং-এর সময়সীমা বাড়ানো হবে। এই মামলার হিয়ারিং হবে সোমবার। মমতা ব্যানার্জি যে কারণে এসেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের আপামর মানুষের হয়ে যা বলার, তার অনেকটাই আজ বলেছেন। পরবর্তী শুনানিতে যদি আসতে পারেন, আবারও তিনি বলবেন। মমতা ব্যানার্জি বাংলার মানুষের জন্য যে দাবি করে এসেছেন, সেই দাবি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের কাছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট মনোভাব প্রকাশ করেছে, আরও সময় বাড়ানোর দরকার আছে। এই যে ছোটখাটো ভুলত্রুটিগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। কোর্ট দেখবে, যাঁরা মৃত, তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাক। যাঁরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে গেছেন, তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাক। ছোটখাটো ভুলের জন্য বাকিদের নাম যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়, তা মৌখিকভাবে জানিয়েছে আদালত।'
