আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্নাটকের রাজনীতিতে ফের জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব নাকি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে পদ ছেড়ে দিল্লিতে বড় জাতীয় ভূমিকা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ওবিসি মুখ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে কংগ্রেস।
মঙ্গলবার দিল্লিতে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে একাধিক বৈঠকের পর এই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে কংগ্রেস নেতৃত্ব দাবি করেছে, বৈঠকে শুধুমাত্র রাজ্যসভা ও কর্নাটক বিধান পরিষদ নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হয়েছে। নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেই জানিয়েছেন দলের নেতারা।
তবে দলীয় সূত্রের দাবি, বৈঠকের আড়ালে সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে। তাঁকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের অন্যতম শক্তিশালী ওবিসি মুখ হিসেবে তাঁর প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে রাহুল গান্ধী সামাজিক ন্যায়, জাতিগত জনগণনা এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেণির রাজনীতিকে সামনে এনে যে রাজনৈতিক কৌশল নিচ্ছেন, সেখানে সিদ্দারামাইয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সূত্রের খবর, কংগ্রেস নেতৃত্ব সিদ্দারামাইয়াকে আশ্বাস দিয়েছে যে দিল্লিতে গেলে তাঁর রাজনৈতিক মর্যাদা অটুট থাকবে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বিষয়গুলিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত তিনি এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত সম্মতি দেননি। বরং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও সময় চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লি থেকে ফিরে সিদ্দারামাইয়া ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী ও বিশ্বস্ত সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও খবর। ফলে কর্নাটক কংগ্রেসে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের এই পরিকল্পনার পিছনে একাধিক কৌশল কাজ করছে। একদিকে কর্নাটকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথ তৈরি করা, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী ওবিসি নেতৃত্ব তুলে ধরা— দুটো উদ্দেশ্যই রয়েছে। রাজ্যসভায় পাঠানোর মাধ্যমে সিদ্দারামাইয়ার মর্যাদা বজায় রেখেই তাঁকে দিল্লিতে আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে এই জল্পনার মধ্যেই আবার সামনে উঠে এসেছে উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের নাম। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে, তবুও কর্নাটকের ক্ষমতার রাজনীতিতে ডি কে শিবকুমারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দিল্লির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, সিদ্দারামাইয়া, ডি কে শিবকুমার, কে সি বেনুগোপাল। সূত্রের খবর, একান্ত বৈঠকে সিদ্দারামাইয়াকে সরাসরি জানানো হয় যে দল তাঁকে কেন্দ্রীয় স্তরে বড় সাংগঠনিক ভূমিকা দিতে চায়।
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের সামনে কে সি বেনুগোপাল সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, বৈঠকে শুধুমাত্র রাজ্যসভা ও এমএলসি নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হয়েছে। নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনও প্রশ্নই ওঠেনি।
বর্তমানে কর্নাটক থেকে চারটি রাজ্যসভা আসন খালি হচ্ছে। কংগ্রেসের তিনটি আসনে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, মল্লিকার্জুন খাড়গেকে আবার রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে। পাশাপাশি ডি কে শিবকুমারের ভাই ডি কে সুরেশের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে আপাতত পুরো রাজনৈতিক সমীকরণ একটাই প্রশ্নে আটকে— সিদ্দারামাইয়া শেষ পর্যন্ত দিল্লির প্রস্তাবে সম্মতি দেন কি না।















