আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। বুধবার সকালে মুম্বই থেকে বারামতীতে যাওয়ার পথে ভেঙে পড়ে তাঁর বিমানটি। এই ঘটনায় পাওয়ার-সহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৬৬ বছর বয়সি এই নেতার আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে।

এ দিন সকালে ভিএসআর ভেঞ্চার্স সংস্থার একটি ছোট বিমানে বারামতী যাচ্ছিলেন পাওয়ার। সেখানে তাঁর একাধিক নির্বাচনী জনসভা করার কথা ছিল। ওড়ার কিছু সময় পরেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানে পাওয়ারের সঙ্গে ছিলেন তাঁর নিরাপত্তারক্ষী, এক জন সহকারী এবং দুই চালক। জানা গিয়েছে, রানওয়েতে নামার দ্বিতীয় চেষ্টার সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি ভেঙে পড়ে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, "অজিত পাওয়ার মাটির মানুষ ছিলেন। মহারাষ্ট্রের সেবায় তাঁর অবদান ভোলার নয়। এই অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।" শোকবার্তায় পাওয়ারের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

উপ মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোকবার্তা জানালেন রাহুল গান্ধী। তিনি লিখলেন, "আজ মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী শ্রী অজিত পাওয়ার এবং তাঁর সহযাত্রীদের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই শোকের সময়ে আমি মহারাষ্ট্রের জনগণের সঙ্গে রয়েছি। এই শোকের মুহূর্তে আমি সমগ্র পাওয়ার পরিবার এবং প্রিয়জনদের সমবেদনা জানাই।" 

?ref_src=twsrc%5Etfw">January 28, 2026

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী লিখেছেন, "মহারাষ্ট্রে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় উপ মুখ্যমন্ত্রী শ্রী অজিত পাওয়ার এবং অন্যান্যদের মৃত্যুর খবর গভীরভাবে দুঃখজনক। প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করি। শ্রদ্ধেয় শরদ পাওয়ার, সুপ্রিয়া সুলে, তাদের পুরো পরিবার এবং শ্রদ্ধেয় অজিত পাওয়ারের সমর্থকদের প্রতি গভীর সমবেদনা।"

?ref_src=twsrc%5Etfw">January 28, 2026

১৯৫৯ সালে মহারাষ্ট্রের এক কৃষক পরিবারে জন্ম অজিত পাওয়ারের। কাকা শরদ পাওয়ারের হাত ধরেই রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা এবং দুই পুত্র জয় ও পার্থ।

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান। বুধবার সকালে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করার সময় ভেঙে পড়ে অজিত পাওয়ারের বিমান। ডিজিসিএ সূত্রে খবর, পওয়ার ছাড়াও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিমানে থাকা আরও চারজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই পাইলট, একজন বিমানকর্মী এবং পওয়ারের দেহরক্ষী।

প্রশাসন সূত্রে খবর, এদিন সকাল ৮টা নাগাদ মুম্বই থেকে ‘লিয়ারজেট ৪৫’ বিমানে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারই এক জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ওড়ার ঘণ্টাখানেক পরেই ঘটে বিপত্তি। সকাল ৯টা নাগাদ অবতরণের ঠিক আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আছড়ে পড়ে বিমানটি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় সেটিতে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল কেবল দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ আর কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া দেখতে পায়।

মহারাষ্ট্রের এই অঞ্চলে বিমান বা হেলিকপ্টার বিভ্রাট এই প্রথম ঘটনা নয়। গত অক্টোবর মাসেই এনসিপি নেতা সুনীল তটকরেকে আনতে গিয়ে একটি হেলিকপ্টার ভেঙে পড়েছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বারামতীতে এর আগেও একাধিকবার জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে ভিভিআইপিদের।

অজিত পাওয়ার মানেই ছিল মহারাষ্ট্র রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। পৃথ্বীরাজ চৌহাণ থেকে একনাথ শিন্ডে- চারজন মুখ্যমন্ত্রীর আমলেই তিনি উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৯১ সালে কাকা শরদ পওয়ারের ছেড়ে দেওয়া বারামতী বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই তাঁর উত্থান। তারপর টানা সাতবার সেখান থেকে জিতে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। ২০১৯ সালে এনসিপিতে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপির হাত ধরা কিংবা ২০২৪-এ লড়াই করে দলের নাম ও প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়া- বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। এই আকস্মিক মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া।