আজকাল ওয়েবডেস্ক: বোনের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে আচমকাই। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে এমনই অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি জানান, চলতি মাসের ১৪ তারিখ আচমকাই সাইবার অ্যাটাকের কবলে পড়েন তাঁর বোন।

জানা গিয়েছে, শশী থারুরের বোন শোভা থারুরের এক্স অ্যাকাউন্টে আচমকাই একাধিক সন্দেহজনক পোস্ট হতে থাকে। তখনই সন্দেহ হয় অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, হ্যাকাররা ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজেদের পণ্য বা পরিষেবার প্রচারের জন্য একটি বিজ্ঞাপন পোস্ট করেছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত অভিযোগ জানানো হয়।

পরবর্তীতে ওই ভুয়ো পোস্ট সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এখনও মূল সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। শশী থারুর জানিয়েছেন, তাঁর বোন নিজের অ্যাকাউন্টে এখনও লগ ইন করতে পারছেন না।

এমনকী, পাসওয়ার্ড বারংবার পরিবর্তন করার পরেও অ্যাকাউন্টে লগ ইন করা যাচ্ছে না। তার কারণ, অ্যাকাউন্টে টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করা হয়েছে। কিন্তু সেই ভেরিফিকেশনের নিয়ন্ত্রণ এখনও রয়েছে হ্যাকারদের হাতে।

অভিযোগ, টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন অ্যাক্টিভেট করলেও সেই ভেরিফিকেশনের কোনও রকম কোড তাঁর কাছে আসেনি। সন্দেহ করা হচ্ছে, হয়ত হ্যাকাররাই এই অতিরিক্ত ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করেছে।

ফলে, অ্যাকাউন্টের আসল মালিক অর্থাৎ শোভা থারুর অ্যাকাউন্ট চালু করতে পারছেন না। তিনি আরও জানান, গত ১৪ এপ্রিল থেকে তাঁর বোন নিয়মিতভাবে এক্স-এর সার্ভিস পোর্টালে অভিযোগ জানিয়ে চলেছেন।

কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। এক্স-এর তরফ থেকে শুধু একটি লিঙ্ক দেওয়া হচ্ছে, যেখানে এই টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সার্ভিসটা বন্ধ করার আবেদন জানানো হচ্ছে।

কিন্তু, লিঙ্কটিতে ক্লিক করলে তা কাজ করছে না বলেও পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া, সরাসরি যোগাযোগের জন্য কোনও কাস্টমার কেয়ার নম্বর বা তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা নেই বলেও উল্লেখ করেন কংগ্রেস সাংসদ।

ফলে সমস্যার কোনও সমাধান হচ্ছে না। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শশী থারুর প্রকাশ্যে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন ইলন মাস্কের কাছে। নিজের পোস্টে এক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ককে ট্যাগ করে সাহায্যের অনুরোধ জানান।

তাঁকে বিষয়টির প্রতি নজর দেওয়ার অনুরোধও করেন। পোস্টে তিনি প্রকাশ্যে অনুরোধ করেছেন, যেন তাঁর বোনের অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলির নিরাপত্তা ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং গ্রাহক পরিষেবার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত সাহায্য না পেলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের সেই প্ল্যাটফর্মগুলোর উপরে আস্থা কমে যেতে পারে।