আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মুম্বইয়ের মালাড এলাকায় আধ্যাত্মিক সাধনার নামে দীর্ঘকাল ধরে চলা এক ভয়ংকর প্রতারণার পর্দাফাঁস করল দিণ্ডোশি থানার পুলিশ। নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী দাবি করা ঋদম পাঞ্চাল ওরফে 'মন্টি বাবা'কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বছর সাঁইত্রিশের এই ব্যক্তি আদতে একজন জিম ট্রেইনার ছিলেন, কিন্তু রাতারাতি ভেক বদলে তিনি হয়ে ওঠেন স্বঘোষিত 'গডম্যান'। গত চার বছর ধরে তাঁর এই অপকর্ম চললেও অবশেষে ৬০ জনেরও বেশি মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে শ্রীঘরে পাঠাল পুলিশ।

তদন্তে উঠে এসেছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। মালাড ইস্টের একটি ফাঁকা জমিতে প্রতি বৃহস্পতিবার এবং শনিবার রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত দরবার বসাতেন মন্টি। সেখানে তাঁর দাবি ছিল, তাঁর ওপর দেবী ভর করেন এবং তিনি যে কোনো জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারেন। বিশেষ করে নিঃসন্তান মহিলাদের সন্তান লাভের টোপ দিয়ে তিনি নিজের জালে ফাঁসাতেন। ঝাড়ফুঁক বা ভূত তাড়ানোর অছিলায় তিনি যে সব কাজ করতেন, তা দেখে হতবাক তদন্তকারীরাও। মুখে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে 'অঘোরী' তান্ত্রিকের বেশে তিনি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন।

মন্টি বাবার সেবার তালিকায় শুধু টাকাপয়সা ছিল না, তাঁর চাহিদা ছিল আরও অদ্ভুত। আশীর্বাদ বা রোগমুক্তির বিনিময়ে তিনি ভক্তদের কাছে দামী মদ, সিগারেট, জ্যান্ত মুরগি এবং খাসির কলজে দাবি করতেন। আধ্যাত্মিকতার নামে এই ধরণের ভোগবিলাসের চাহিদা দেখেই স্থানীয়দের মনে প্রথম সন্দেহের দানা বাঁধে। কেউ যদি তাঁর এই অদ্ভুত রীতিনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন বা টাকা দিতে অস্বীকার করতেন, তবে তাঁদের বাড়িতে গুন্ডা পাঠিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে এই ভণ্ড বাবার বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রাক্তন বিজেপি কর্পোরেটর তথা আইনজীবী সিদ্ধার্থ শর্মার কাছে গিয়ে নিজেদের দুর্দশার কথা জানান। সামনে আসে মাঝরাতে তান্ত্রিক ক্রিয়ার নামে যৌন শোষণ এবং আর্থিক প্রতারণার ভয়াবহ সব কাহিনী। আইনি পদক্ষেপ শুরু হতেই একে একে আরও অনেকে সাহস করে অভিযোগ জানাতে এগিয়ে আসেন। পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, মন্টি আসলে কেবল একজন জিম ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন এবং তাঁর কোনও  আধ্যাত্মিক ভিত্তি নেই। নেশার ঘোরে থাকা অবস্থায় দেবীর ভর হওয়ার অভিনয় করে তিনি আসলে সমাজের দুর্বল ও অসহায় মানুষদের শোষণ করছিলেন।

বর্তমানে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কার বিরোধী আইনে মন্টি বাবার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে আজই আদালতে পেশ করা হবে। আধ্যাত্মিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এমন অপরাধীদের থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।