আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্ণাটকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকাশ্যে এল অসন্তোষের ছবি। মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর না পাওয়ায় পদত্যাগের ঘোষণা করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও মন্ত্রী রামালিঙ্গা রেড্ডি। তাঁর এই পদক্ষেপ রাজ্যের শাসকদল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট দপ্তর না পাওয়াতেই ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেড্ডি। সাংবাদিকদের সামনে নিজের পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করার পর তিনি বলেন, “দু’বার আমাকে বলা হয়েছিল যে বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট দপ্তর আমার হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় আমি হতাশ। সেই কারণেই মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।”
রামালিঙ্গা রেড্ডির দাবি, ডি কে শিবকুমার ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তর ছেড়ে দেবেন এবং সেটি রেড্ডির হাতে তুলে দেওয়া হবে। এমনকি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগের দিনও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে রেড্ডি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর ক্ষোভ ব্যক্তিগত নয়। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার প্রতি তাঁর কোনও অসন্তোষ নেই। তিনি বিধায়ক পদে বহাল থাকবেন এবং জনসেবার কাজ চালিয়ে যাবেন।
আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন না। বরং তাঁর এক সমর্থকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিবের কাছে সেই চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন।
কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতা আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট দপ্তর ছাড়া অন্য কোনও মন্ত্রিত্ব নিতে তিনি আগ্রহী নন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে মেজর ও মিডিয়াম ইরিগেশন বা বৃহৎ ও মাঝারি সেচ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সরকারের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার অর্থ দপ্তর নিজের কাছে রাখলেও বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট দফতরের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। সেই গুরুত্বপূর্ণ দফতর দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসের আরেক প্রবীণ নেতা কৃষ্ণা বাইরে গৌড়াকে।
কর্ণাটক সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী এবং মর্যাদাপূর্ণ দপ্তর হিসেবে বিবেচিত হয় বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট বিভাগ। রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর নগর পরিকল্পনা, কাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের দায়িত্ব এই বিভাগের অধীনে থাকে। ফলে রাজনৈতিকভাবে এই দফতরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
৭২ বছর বয়সি রামালিঙ্গা রেড্ডি বেঙ্গালুরুর বিটিএম লেআউট কেন্দ্রের বিধায়ক এবং টানা আটবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সিদ্ধারামাইয়া সরকারের সময় তিনি পরিবহণ এবং হিন্দু ধর্মীয় ও দাতব্য ট্রাস্ট দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। অতীতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বও সামলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, ৫৩ বছর বয়সি কৃষ্ণা বাইরে গৌড়া সিদ্ধারামাইয়া মন্ত্রিসভায় রাজস্বমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রভাবশালী ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের এই নেতা বেঙ্গালুরুর বায়াতারায়ণপুরা কেন্দ্রের বিধায়ক। তাঁর বাবা সি. বাইরে গৌড়া কর্ণাটক বিধানসভার প্রাক্তন উপ-স্পিকার এবং কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। নতুন দপ্তর পাওয়ার ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।















