আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিট সহ দেশের অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যখন লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই তাঁদের আশ্বস্ত করতে সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রশ্নপত্র লিক ও পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতি রুখতে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে পোস্ট করা তাঁর একটি সেলফি ভিডিও ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভিডিওটি পোস্ট করার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১০ লাখ নতুন অনুগামী যুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রোফাইলে, যার ফলে সেখানে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ কোটি ২০ লাখে।

 

"আগামীকালের ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নেওয়া হবে আরও কড়া পদক্ষেপ!"— এই ক্যাপশনে পোস্ট করা ভিডিওটি ইতোমধ্যে ২৭১ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে এবং এতে কোটি পেরিয়ে গেছে লাইকের সংখ্যা। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা পেপার মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ঘটনার পর থেকে একাধিক প্রভাবশালী অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে, প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর যাতে একটি মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, সে কথা মাথায় রেখে দ্রুত পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সমস্ত বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া বিপুল সাড়ার জন্য দেশবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল একটি আইনি লড়াই নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার। সংসদীয় আলোচনার পর ইতিপূর্বেই পাস হয়েছে অ্যান্টি-পেপার লিক আইন। তবে এখানেই থেমে না থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পরীক্ষায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট বৈঠকে আরও কঠোর সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

নতুন প্রস্তাবিত খসড়া আইনে অপরাধীদের ন্যূনতম সাজা ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়েছে এবং অপরাধের ভয়াবহতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সংশোধনী সংসদে পেশ হতে চলেছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এবং আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের তরুণ মেধার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ঐতিহাসিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।