আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাঝসমুদ্রে হঠাৎই ভোলবদল। চীন যাওয়ার কথা থাকলেও গতিপথ বদলে ভারতের দিকে ঘুরে গেল রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট চরমে, ঠিক তখনই রুশ তেলের এই গতিবদল নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

শিপ-ট্র্যাকিং বা জাহাজ চলাচলের তথ্য বলছে, 'অ্যাকুয়া টাইটান' নামের ওই রুশ জাহাজটি আগামী ২১ মার্চ কর্নাটকের নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে এসে পৌঁছতে পারে। জানুয়ারি মাসে রাশিয়ার বাল্টিক সাগর থেকে তেল নিয়ে রওনা দিয়েছিল জাহাজটি। প্রথমে কথা ছিল সেটি চীনের রিজাও বন্দরে যাবে। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি দক্ষিণ চীন সাগরে পৌঁছেই হঠাৎ ভারতের দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয় জাহাজটি। যদিও বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাননি।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ঘটনার নেপথ্যে আমেরিকার সায় রয়েছে। ইরান ও ইজরায়েলের যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে আসে, সেই 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে ভারত যাতে রাশিয়ার থেকে বেশি করে তেল কিনতে পারে, তার জন্য ট্রাম্প সরকার কিছুটা ছাড় দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকার সবুজ সংকেত পেতেই আসরে নেমেছে ভারতের তেল শোধনাগারগুলি। গত এক সপ্তাহেই প্রায় তিন কোটি ব্যারেল রুশ তেল কেনার 'ছাড়' দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, শুধু একটি জাহাজ নয়, অন্তত সাতটি রুশ তেলের জাহাজ চীন যাওয়ার বদলে এখন ভারতের দিকে আসছে। এমনকী কাজাখস্তান থেকে আসা ‘জুজু এন’ নামের একটি জাহাজও একই কায়দায় মাঝপথে দিক পরিবর্তন করে ভারতের সিক্কা বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে।

যুদ্ধের এই থমথমে পরিবেশের মধ্যেও স্বস্তির খবর শুনিয়েছে দিল্লি। ভারতের পতাকাবাহী ‘নন্দাদেবী’ ও ‘শিবালিক’ নামে দুটি গ্যাস-বাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে গুজরাটে পৌঁছেছে। মধ্য এশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি আমদানির পথ কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে দুশ্চিন্তার মাঝেই এই খবর কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে দিল্লিকে।