আজকাল ওয়েবডেস্ক: এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেওয়ার পর দেশজুড়ে বিকল্প রান্নার সরঞ্জামের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ‘রকেট স্টোভ’ বা ‘টার্বো স্টোভ’ এখন দোকানের তাক থেকে দ্রুত উধাও হয়ে যাচ্ছে। নির্মাতারা বলছেন, হঠাৎ বেড়ে যাওয়া অর্ডার সামলাতে তাদের কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে।


বাণিজ্যিক রান্নাঘরের সরঞ্জাম তৈরির অন্যতম বড় কেন্দ্র কোয়েম্বাটুরের নির্মাতারা জানিয়েছেন, কাঠে চলা রকেট স্টোভের পাশাপাশি কমার্শিয়াল ইনডাকশন স্টোভের চাহিদাও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এলপিজি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় অনেক হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং গৃহস্থালির রান্নাঘরেই এখন বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে মানুষ।


শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প সময়ে এত বেশি অর্ডার আসায় উৎপাদনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। আগে যেখানে ক্রেতাদের এক সপ্তাহের মধ্যে ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত, এখন কাঁচামালের ঘাটতি এবং সীমিত উৎপাদন ক্ষমতার কারণে সেই প্রতিশ্রুতি রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কোয়েম্বাটুরের ‘হট স্প্রিংস’ নামের একটি সংস্থার মালিক শ্রী বিদ্যা রাজেন্দ্রন জানান, সপ্তাহের শুরু থেকেই চাহিদা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। তিনি বলেন, “সোমবার থেকে আমাদের টার্বো স্টোভের অর্ডার হঠাৎ বেড়ে গেছে। আগে কাঠে চলা বয়লার বা স্টোভের চাহিদা খুবই কম ছিল।”


বিদ্যা আরও জানান, এখন বাণিজ্যিক এবং গৃহস্থালি—দুই ধরনের রকেট স্টোভেরই চাহিদা তুঙ্গে। অনেক দোকানেই ইনডাকশন স্টোভ ইতিমধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। ফলে বহু পরিবার এখন আধুনিক কাঠচালিত স্টোভকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে।


তার সংস্থা সাধারণত মাসে ১০০ থেকে ১২০টি টার্বো স্টোভ বিক্রি করে। কিন্তু গত কয়েক দিনের মধ্যেই ৫,০০০টির বেশি অর্ডার এসে গেছে। তিনি বলেন, “এত অর্ডার এলেও নানা সমস্যার কারণে আমরা এর ১০ শতাংশও সরবরাহ করতে পারছি না।”


বাজারে বিভিন্ন আকার ও ক্ষমতার রকেট স্টোভ পাওয়া যায়। ছোট গৃহস্থালি স্টোভের দাম প্রায় ৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে বড় বাণিজ্যিক মডেলের দাম প্রায় ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এগুলোর রান্নার ক্ষমতাও আলাদা—কিছু স্টোভে তিনজনের খাবার রান্না করা যায়, আবার বড় মডেলে একসঙ্গে ৫০০ জনের জন্যও রান্না করা সম্ভব।


কেরালার এক হোটেল ব্যবসায়ী জে. জ্যাকব ভার্গিস কোয়েম্বাটুরে এসে রকেট স্টোভ কিনতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, “ইনডাকশন স্টোভ আমাদের জন্য খুব সাশ্রয়ী নয়। তাই রকেট স্টোভ নিতে চেয়েছিলাম। দাম বেশি দিলেও নিতে রাজি ছিলাম, কিন্তু কোথাও স্টকই নেই।”

 


পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্মাতারা এখন অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনও অনেক কম বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।