আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রথমবারের জন্য প্রদর্শন করা হবে ভারতীয় সেনার বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র এস ৪০০।

২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ভারতের আকাশসীমা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল এই এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।

জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি উপলক্ষ্যে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হতে চলেছে এটি।

জানা গিয়েছে, ডিপার্টমেন্ট অব মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের ট্যাবলোতে এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদর্শিত হবে।

এমনটাই জানিয়েছেন এয়ার কমোডোর মনীশ সাবরওয়াল। অপারেশন ‘সিঁদুর’-এর সময় এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কার্যকরভাবে মোতায়েন করা হয়েছিল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে।

গত বছরের আগস্টে এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং নিশ্চিত করেন, অপারেশন ‘সিঁদুর’-এর সময় ভারতের এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পাঁচটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।

পহেলগাঁওয়ে নৃশংস জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারত।

সেই অপারেশন ‘সিঁদুর’-এর পর পাল্টা ভারতে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলা রুখতে বড় ভূমিকা নিয়েছিল ভারতের এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র।

এবার প্রজাতন্ত্র দিবসে ডিপার্টমেন্ট অব মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স ‘ট্রি-সার্ভিসেস ট্যাবলো – অপারেশন সিঁদুর’ উপস্থাপন করবে বলে জানা গিয়েছে।

এই ট্যাবলোতে ভারতীয় সেনা, নৌ ও বায়ুসেনার মধ্যে যৌথ অভিযানের সাফল্য তুলে ধরা হবে। মেজর জেনারেল নভরাজ ঢিলনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভাবনিশ কুমার টানা চতুর্থবারের মতো কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব দেবেন।

এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে মোট ৬,০৫০ জন সামরিক কর্মী অংশ নেবেন। পাশাপাশি ভৈরব, শক্তিবান, ইউজিভি এবং এটিএজিএস সহ একাধিক আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শিত হবে।

উল্লেখ্য, ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে মোট ৩০টি ট্যাবলো অংশ নেবে। এর মধ্যে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং ১৩টি বিভিন্ন মন্ত্রক, দপ্তর ও পরিষেবার ট্যাবলো থাকবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবারের প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্‌যাপন হবে ‘স্বতন্ত্রতার মন্ত্র: বন্দে মাতরম’ এবং ‘সমৃদ্ধির মন্ত্র: আত্মনির্ভর ভারত’—এই দুই মূল ভাবনার ওপর ভিত্তি করে।

ট্যাবলোগুলিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি স্মরণ করা হবে। পাশাপাশি আত্মনির্ভরতার পথে ভারতের অগ্রগতি এবং দেশের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও তুলে ধরা হবে।