আজকাল ওয়েবডেস্ক: এ প্রস্তাবের জুড়ি মেলা ভার! গ্রিনিচ মিন টাইম (জিএমটি)-এর পরিবর্তে একটি নতুন 'মহাকাল স্ট্যান্ডার্ড টাইম' (এমএসটি) চালুর আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী সফরে রয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শুক্রবার উজ্জয়িনীর প্ল্যানেটোরিয়াম চত্বরে তিন দিনব্যাপী 'মহাকাল: দ্য মাস্টার অফ টাইম' শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী দাবি করেন, এই প্রাচীন নগর দীর্ঘকাল ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সময় গণনার সঙ্গে যুক্ত। তাই ইংল্যান্ডের একটি শহরের ওপর দিয়ে কল্পিত যে রেখা ঔপনিবেশিক শাসকরা নির্ধারণ করে গিয়েছিল, তার পরিবর্তে উজ্জয়িনীকেই সময় গণনার বিশ্বব্যাপী মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, "উজ্জয়িনী হল সেই স্থান যেখানে বিষুবরেখা এবং কর্কটক্রান্তি রেখা মিলিত হয়েছে। প্রাচীনকালে বিশ্বের সময় গণনা এখান থেকেই করা হত। তাই, এখন সময় এসেছে 'গ্রিনিচ মিন টাইম' (জিএমটি)-এর পরিবর্তে যৌক্তিকভাবে 'মহাকাল স্ট্যান্ডার্ড টাইম' (এমএসটি)-কে প্রতিষ্ঠিত করার।"
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, এই পদক্ষেপটি "বিশ্ব দরবারে দেশের বৈজ্ঞানিক গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে" সহায়তা করবে।
'মহাকাল: দ্য মাস্টার অফ টাইম' শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন ছাড়াও ধর্মেন্দ্র প্রধান 'উজ্জয়িনী বিজ্ঞান কেন্দ্র'-এর উদ্বোধন করেন এবং একটি বিজ্ঞান প্রদর্শনীর সূচনা করেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান ঔপনিবেশিক আমলের শিক্ষানীতির প্রভাব মুছে ফেলারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে, আগামী এক দশকের মধ্যেই ভারতকে অবশ্যই সেই "ম্যাকাউলে-সুলভ মানসিকতা" ঝেড়ে ফেলতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, "উজ্জয়িনীর বিজ্ঞান কেন্দ্র ও প্ল্যানেটোরিয়ামকে শক্তিশালী করা এই লক্ষ্যের একটি বড় পদক্ষেপ। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। উজ্জয়িনী এমন একটি স্থান, যেখানে আধ্যাত্মিকতা ও বিজ্ঞানের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচে যায় এবং এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির উন্মেষ ঘটে।"
প্রধানের সফরসঙ্গী মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও এই ধারণাকে সমর্থন জানান। তাঁর দাবি, ঐতিহাসিকভাবেই উজ্জয়িনী জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, "উজ্জয়িনীতে সময় গণনা কেবল একটি ধর্মীয় বিষয়ই নয়, বরং এটি পুরোপুরি বৈজ্ঞানিকও বটে - যা আমাদের পূর্বপুরুষরা বহু যুগ আগেই 'সূর্যসিদ্ধান্ত'-এর মতো শাস্ত্রীয় গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন। সময় এবং স্থান একে অপরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।"
মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, "সময় পরিমাপের প্রথাগত ভারতীয় পদ্ধতিগুলো মূলত সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং গ্রহ-নক্ষত্রের গতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তিনি দাবি করেন, এই বৈশিষ্ট্যই ভারতীয় পদ্ধতিগুলোকে 'গ্রিনিচ মিন টাইম (জিএমটি)'-এর চেয়েও অধিক নির্ভুল করে তুলেছে।" মোহন যাদব আরও বলেন যে, তাঁর সরকারের লক্ষ্য হল উজ্জয়িনকে একইসঙ্গে একটি ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
কংগ্রেস মুখপাত্র রশিদ আলভি কেন্দ্রীয়শিক্ষা মন্ত্রীর এমন আহ্বান প্রসঙ্গে উপহাস করেছেন। তিনি বলেছেন, "এই প্রস্তাবই প্রমাণ করে যে বিজেপির উন্নয়ন এজেন্ডা কতটা দেউলিয়া। বিজেপির কাছে উন্নয়নের অর্থ হল, অন্যদের তৈরি রাস্তাঘাট ও শহরগুলোর নাম পরিবর্তন করা।"
রশিদ আলভি কটাক্ষ করে আরও বলেন, "এখন তারা (বিজেপি) সময়ের মানদণ্ডই বদলে দিতে চাইছে। কারণ তাদের দৃষ্টিতে, ভারতীয় সভ্যতা বলতে কেবল এটুকুই বোঝায়। কিন্তু শুধু এটুকুর মধ্যেই থেমে থাকা কেন? বরং নিজেদের মোবাইল ফোনগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিন, টেলিফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করুন এবং বিদ্যুতের বদলে প্রদীপ জ্বালান!"
















