আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর গোয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মধ্যপ্রদেশের ভোপালের এক পর্যটক। আহত হয়েছেন তাঁর সঙ্গে থাকা একজন মহিলা। দুর্ঘটনায় জড়িত একটি ভাড়া করা মাহিন্দ্রা থার গাড়ি সঙ্গে একটি সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়ি। দুর্ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এই দুর্ঘটনা পর্যটন এলাকায় বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রবণতা নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ৬৫-র মৃত ব্যক্তির নাম ভগত শর্মা। ভোপালের বাসিন্দা ভগত, ছুটি কাটাতে গোয়ায় এসেছিলেন। তাঁর গাড়িতে ছিলেন আরও একজন মহিলা ও পাঁচ বছরের একটি শিশু। দুর্ঘটনার সময় থার গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল বলে অভিযোগ। গাড়িটি আচমকাই এসে শর্মার ভগতের আই২০ গাড়িকে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতায় হুন্ডাইয়ের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার পর শর্মা মাথায় গুরুতর চোট পান। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি হয় প্রায় এক ঘণ্টা। ফলে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের গতিতে। তাতে দেখা যায়, থারের ভিতরে থাকা কিছু আতঙ্কিত তরুণ-তরুণীর মুখ। এক তরুণকে ফোনে বলতে শোনা যায়, “চার রাস্তার মোড় ছিল বাবা। আমি এক ধার দিয়ে আসছিলাম… তারপর ধাক্কা লাগে।” ভিডিওতে আরও দেখা যাচ্ছে, তরুণটি গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি সরানোর চেষ্টা করছেন। যদিও এক পথচারীর হস্তক্ষেপে তা তিনি করতে পারেননি আর।
স্থানীয় বাসিন্দা মাইরন ফার্নান্ডেজের দাবি, দুর্ঘটনার সময় থারটি এক মহিলা চালাচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “দুর্ঘটনার পর ওই মহিলা পাশের সিটে গিয়ে বসেন এবং দলের এক পুরুষ সদস্য ড্রাইভারের আসনে গিয়ে বসেন।” তবে পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেলেও কে মূল অভিযুক্ত তা জানায়নি এখনও।
এক পুলিশ আধিকারিকের বয়ানে, “জিপটি ভাড়া করা ছিল। চালকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মামলা রুজু হয়েছে। গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।”
