আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্মরত শিক্ষকদের জন্য যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা টেট (টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট) পাশ করা বাধ্যতামূলক।— নিজেদের এই আগের রায়ই বহাল রাখল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তবে শিক্ষকদের সুবিধার্থে এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই পরীক্ষা পাশ করার সময়সীমা আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত করেছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চাকরি টিকিয়ে রাখতেহলে এই সময়ের মধ্যেই টেট পাশ করতেই হবে। কারণ এর পর আর নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানো হবে না।
শুক্রবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি মনমোহনের ডিভিশন বেঞ্চ বিভিন্ন রাজ্য সরকার, শিক্ষক সংগঠন এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগতভাবে দায়ের করা ৬৫টিরও বেশি রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেয়। তারপরই এই রায়দান করে।
২০২৫ সালের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন বা আরটিই চালুর আগে নিযুক্ত যেসব শিক্ষকদের অবসরের আরও ৫ বছরের বেশি বাকি আছে, তাদের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ২ বছরের মধ্যে টেট পাস করতে হবে। অর্থাৎ সময়সীমা ছিল ৩১ আগস্ট, ২০২৭ পর্যন্ত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাতে দ্রুত ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সহ পরীক্ষা নিতে পারে, তার জন্য সময়সীমা ২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩ বছর অর্থাৎ ৩১ আগস্ট, ২০২৮ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলিকে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, তাঁরা যেন নিয়মিত এবং সম্ভব হলে বছরে অন্তত দু'বার টেট পরীক্ষার আয়োজন করে। ছয় মাসের ব্যবধানে আয়োজন করতে হবে সেই পরীক্ষার। এর ফলে শিক্ষকরা যোগ্যতা প্রমাণের পর্যাপ্ত সুযোগ পাবেন।
আবেদনকারীরা শীর্ষ আদালতকে জানায়, আরটিই আইন আসার আগে যাঁরা চাকরিতে ঢুকেছেন, তাঁদের চাকরিজীবনের মাঝখানে এসে এ ভাবে নিয়ম বদলে টেট পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা অন্যায়। এতে হাজার হাজার শিক্ষক চাকরি হারাতে পারেন, যা সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্যয় ডেকে আনবে।
সেই যুক্তি খারিজ করেই সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দেয়, "শিক্ষার অধিকার আইনটি মূলত শিশু-কেন্দ্রিক একটি আইন। শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যতের পরিবর্তে শিক্ষকদের চাকরি টিকিয়ে রাখা যাবে না। টেট পাস না করা হাজার হাজার শিক্ষককে ছাড় দিলে তা আগামী প্রজন্মের শিক্ষার ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে।"
বেঞ্চ আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, ২০০৯ সালের আরটিই আইনেই কর্মরত শিক্ষকদের ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন-এর কোনও বিজ্ঞপ্তি বা বিধি মূল আইনের পরিবর্তে শিক্ষকদের এই পরীক্ষা থেকে ছাড় দিতে পারে না।















