আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত–মার্কিন সম্পর্ক এবং শুল্কনীতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক, ভারতের উপর আরোপিত শুল্ক এবং রুশ তেল আমদানির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন, তার প্রেক্ষিতে বুধবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এই আক্রমণে তিনি ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা টেনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বের উদাহরণ সামনে এনেছেন।

মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের হাউস রিপাবলিকান সদস্যদের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভারতের উপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী মোদি “খুশি নন”। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতকে এখন “অনেক বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে”। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?’”

ট্রাম্প আরও বলেন, “মোদির সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক আছে। তবে তিনি আমার উপর খুব খুশি নন, কারণ এখন তাদের অনেক শুল্ক দিতে হচ্ছে। তারা রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ অবশ্য এখন অনেকটাই কমিয়েছে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে মার্কিন শুল্কনীতির চাপে ভারত তার জ্বালানি নীতিতে কিছুটা হলেও পরিবর্তন করেছে।

এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাহুল গান্ধী এক্স-এ একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “ফারাক বুঝুন, স্যারজি!” এবং নিজের একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করেন। ওই ভিডিওতে রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন যে ভারত–পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের সময় ট্রাম্পের একটি ফোনকলের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি কার্যত “আত্মসমর্পণ” করেছিলেন।

ওই একই ভিডিওতে রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বের তুলনা টানেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে চাপ দিতে সপ্তম নৌবহর (Seventh Fleet) পাঠালেও ইন্দিরা গান্ধী একচুলও নড়েননি। রাহুলের কথায়, “এটাই পার্থক্য” একদিকে আপসহীন নেতৃত্ব, অন্যদিকে বিদেশি চাপে নতিস্বীকার।

কেবল রাহুল গান্ধী নন, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) জয়রাম রমেশও প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে তিনি এক্সে লেখেন, “নমস্তে ট্রাম্প থেকে হাউডি মোদি, তারপর ডোনাল্ড ভাই, আর এখন এই অবস্থা। এরপর কী?”

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে ভারতের উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক যুক্ত রয়েছে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারত নাকি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহের জন্য অপেক্ষা করছে। ট্রাম্পের কথায়, “আমরা এটা বদলাচ্ছি। ভারত ৬৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার অর্ডার দিয়েছে।”

এর আগেও কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছিল, যখন ট্রাম্প বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র “খুব দ্রুত” ভারতের উপর আরও শুল্ক বাড়াতে পারে। তখন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘নমস্তে ট্রাম্প’ বা ‘হাউডি মোদি’-র মতো জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান এবং প্রকাশ্য বন্ধুত্ব দেখানো  ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিরোধীদের সর্বশেষ এই আক্রমণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ভারত–মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই আরও ধারালো হচ্ছে। কংগ্রেসের চেষ্টা, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের সামনে মোদি সরকারকে দুর্বল ও আপসহীনহীন হিসেবে তুলে ধরা। অন্যদিকে শাসক শিবিরের দাবি, বাণিজ্য ও জ্বালানি নীতি নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ভারত–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখনও মজবুত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।