আজকাল ওয়েবডেস্ক: কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শুক্রবার জার্মানির বার্লিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিশ্ব  রাজনীতি, ভারতের গণতান্ত্রিক পরিসর এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। জার্মান থিঙ্ক-ট্যাঙ্কগুলির সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তিনি বার্লিনের প্রখ্যাত হের্টি স্কুলে ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের উদ্দেশ্যে  ভাষণ দেন।

হের্টি স্কুলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী গণতন্ত্রকে কেবল শাসনব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং “নিরন্তর অংশগ্রহণ, দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহির একটি চলমান প্রক্রিয়া” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি নেতৃত্বের ধারণা, পরিবর্তনশীল বিশ্ব  ব্যবস্থার অভিঘাত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, সমান সুযোগ ও সমতার ভিত্তিতে শিক্ষা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে।

এরপর বার্লিনে ওভারসিজ ইন্ডিয়ান কংগ্রেস আয়োজিত এক সভায় প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি সত্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট  করেন। তিনি বলেন, “আমাদের সম্পূর্ণ সংস্কৃতিই সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে। কংগ্রেস, মহাত্মা গান্ধী এবং আপনারা আমরা সবাই ভারতের সত্যকে রক্ষা করি।” একই সঙ্গে তিনি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, “আরএসএস-এর আদর্শগত  প্রধান প্রকাশ্যে বলছেন যে সত্যের কোনও মূল্য নেই, ক্ষমতাই সব। এটাই ওদের সঙ্গে আমাদের মৌলিক পার্থক্য।”

প্রবাসী ভারতীয়দের ভূয়সী প্রশংসা করে রাহুল গান্ধী বলেন, জার্মানিতে বসবাসকারী ভারতীয়রা দেশের “অসাধারণ রাষ্ট্রদূত”। তাঁর কথায়, “আপনারা ভারতের ভাবনা বহন করেন, ভারতের সত্য বহন করেন। আপনাদের নিয়ে আমি গর্বিত।”

এই সফরের অংশ হিসেবে রাহুল গান্ধী জার্মানির প্রাক্তন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে বিশ্ব  রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ভারত-জার্মানি সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি তিনি জার্মানির পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষা মন্ত্রী কার্স্টেন শ্নাইডারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদী  সমাধানের গুরুত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন।

কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়েছে, এই বার্লিন সফরের মাধ্যমে রাহুল গান্ধী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি এবং প্রবাসী ভারতীয় সমাজের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংযোগ আরও দৃঢ় করার বার্তা দিয়েছেন।