আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাসপাতালের গেটের মুখেই গুলি করে খুন নার্সকে। বুধবার রাতে মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার শাহগড় এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় নার্সকে গুলি করে খুন করল এক দুষ্কৃতী। শাহগড় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের ঠিক দরজার সামনেই ঘটে এই নৃশংস ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবতীর নাম দীপশিখা চাদর (২৫)। তিনি ওই হাসপাতালেই কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ নিজের নাইট ডিউটি যোগ দিতে আসছিলেন দীপশিখা। হাসপাতালের গেটের সামনেই এক যুবক হঠাৎ তাঁর পথ আটকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই যুবক প্রথমে দীপশিখাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং খুব কাছ থেকে পর পর তিন রাউন্ড গুলি চালায়। একটি গুলি দীপশিখার পিঠে লাগে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ঘটনার মূলে প্রেম। প্রেমঘটিত কোনও বিবাদের জেরে এই খুন। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক জবলপুরের বাসিন্দা এবং দীপশিখার পূর্বপরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে দীপশিখাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। তাতে রাজি না হওয়াতেই আক্রোশ থেকে এই হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখছে এখন পুলিশ।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলটি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে। একইসঙ্গে  বাসস্ট্যান্ডের কাছে হওয়ায় যথেষ্ট জনবহুল। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক স্থানীয়রা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জীব কুমার উইকে জানান, "ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম তৈরি করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।"

হামলাকারী যুবক পাশের জঙ্গলের দিকে পালিয়েছে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। সংলগ্ন ছতরপুর জেলাতেও সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ। 

অন্যদিকে, গুয়াহাটিতে আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা৷ বাড়ির ভেতর তল্লাশি চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। অথচ তন্নতন্ন করে খুঁজেও দেখা নেই কিশোরীর। অবশেষে সন্দেহ হওয়ায় ঘরের কোণে রাখা একটি কাঠের বাক্স খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের! দেখা গেল, কাঠের ওই ছোটো বাক্সের ভিতরেই কুঁকড়ে পড়ে রয়েছে ১৩ বছরের এক নাবালিকা। গুয়াহাটিতে সম্প্রতি হাড়হিম কাণ্ড। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় জেলা শ্রম টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা এক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ওই বাড়িতে হানা দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে এক নাবালিকাকে পরিচারিকার কাজে আটকে রাখা হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, তাকে দিনের পর দিন অত্যাচার করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযানে নামেন আধিকারিকরা। যদিও বাড়ির মালকিন আরিনা লস্কর খাতুন শুরুতে বুক ঠুকে দাবি করেন, ওই কিশোরী এখানে নেই। দিন কয়েক আগেই তাকে নিয়ে গিয়েছে তার বাবা।

কিন্তু আরিনার কথায় সন্দেহ হয় আধিকারিকদের। ঘরে তল্লাশি চালাতে গেলে তিনি বাধা দিয়ে দাবি করেন, ভিতরে শিশু ঘুমাচ্ছে। সেই বাধা উড়িয়ে ঘরে ঢুকে খাটের বাক্স খুলতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। দেখা যায়, ধরা পড়ার ভয়ে ওই কিশোরীকে জ্যান্ত অবস্থায় ছোটো কাঠের বাক্সের ভিতর পুরে দিয়েছিলেন মালকিন। প্রায় ২৫ মিনিট ওই দমবন্ধ করা অবস্থায় ভিতরে পড়ে ছিল সে। জানা গিয়েছে, উদ্ধারের সময় মেয়েটি এতটাই দুর্বল ছিল যে, ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না। একটু জল খেয়ে ধাতস্থ হতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।

পুলিশি জেরায় ওই নাবালিকা জানিয়েছে, গত ছয় বছর ধরে সে ওই বাড়িতে কাজ করছে। প্রায় দিনই তার ওপর অমানবিক মারধর চালানো হতো। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আপাতত ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে।