আজকাল ওয়েবডেস্ক: শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তছনছ নয়ডা। তদন্তে উঠে এসেছে, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাতারাতি হয়েছিল পরিকল্পনা। সেই মতোই সোমবার সকাল হতেই নয়ডা ফেজ-২ তে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে কিউআর কোডের মাধ্যমে বহু শ্রমিককে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়। এই গ্রুপগুলোর একটির নাম ছিল 'Workers' Movement'। এই গ্রুপগুলোর মাধ্যমেই উস্কানি দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিক্ষোভের তীব্রতা বেড়ে গিয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
হরিয়ানা সরকারের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের জেরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ক্রমশ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সোমবারের বিক্ষোভে ৪০ হাজারেরও বেশি কারখানার শ্রমিক শামিল হয়েছিলেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে গেলেই প্রতিবাদ শুরু হয়। নয়ডার 'ফেজ-২' এবং 'সেক্টর ৬৩' এলাকায় বিভিন্ন যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। চলে ইট বৃষ্টি। এর জেরে নয়ডাগামী প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট হয়েছিল। পরে নয়ডাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়। হ
সন্ধ্যা নাগাদ অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের দায়ে প্রতিরোধমূলক ধারায় ৩০০-এরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আরও ১০০-এরও বেশি প্রতিবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
সোমবারের পর মঙ্গলবারও, বিক্ষোভ অব্যাহত। নয়ডার 'সেক্টর ৮০' এলাকায় কারখানার শ্রমিকরা পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে।
এই ঘটনায় 'বহিরাগতরা' জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের যোগসূত্রের বিষয়টিও নজরে রয়েছে তদন্তকারীদের। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার পরও কিছু 'বহিরাগত' নয়ডায় অস্থিরতা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
গৌতম বুদ্ধ নগর পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিং বলেন, "শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার পর, জেলার বাইরের একটি দল পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এসে জড়ো হয়। তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে উত্তেজনা তৈরি ও হিংসা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। আমরা এই দলের কয়েকজন সদস্যকে হেফাজতে নিয়েছি এবং বাকি ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ করছি, যাতে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।"
উত্তরপ্রদেশের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু গ্রেপ্তারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, নয়ডার এই অস্থিরতার পেছনে পাকিস্তানের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই বিক্ষোভকে একটি "পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র" হিসেবে অভিহিত করে উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী বলেন, "মনে হচ্ছে, রাজ্যের উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মিরাট ও নয়ডা থেকে চারজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের সংযোগ ছিল পাকিস্তানে অবস্থানরত মূল পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে। এমতাবস্থায়, রাজ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনও ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সংস্থা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে।"
মন্ত্রী আরও দাবি করেন যে, এই অস্থিরতার লক্ষ্য হতে পারে দিনের শুরুর দিকে মুজাফফরনগরে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্ধারিত কর্মসূচি ব্যাহত করা। তিনি অভিযোগ করেন যে, "দেশবিরোধী শক্তিগুলো" রাজ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি যোগ করেন, "মানুষের উচিত নয় কোনও বিভ্রান্তিকর তথ্য বা প্ররোচনার ফাঁদে পা দেওয়া; তাদের অবশ্যই শান্তি বজায় রাখতে হবে। বিশৃঙ্খলা এবং উগ্র বিক্ষোভ কোনও সমস্যারই সমাধান হতে পারে না। শ্রমিকদের প্রতিটি অভিযোগ বা উদ্বেগের কথা শুনতে সরকার সর্বদা প্রস্তুত।"
যোগীর পদক্ষেপ:
হিংসাত্মক বিক্ষোভের ঘটনার ঠিক একদিন পরেই, যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন উত্তর প্রদেশ সরকার অদক্ষ, আধা-দক্ষ এবং দক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২১ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। তবে, সরকার এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছে যে, ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে মাসে ২০,০০০ টাকা করা হয়েছে এবং নিয়োগকর্তারা সরকারের এই নির্দেশিকা মেনে চলছেন না।
এই অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে, গৌতম বুদ্ধ নগর এবং গাজিয়াবাদের জন্য সরকার নির্ধারিত মজুরির হার বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১লা এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন হার অনুযায়ী, অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে হয়েছে ১৩,৬৯০ টাকা, আধা-দক্ষ শ্রমিকদের ১৫,০৫৯ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের ১৬,৮৬৮ টাকা।
রাজ্য সরকারের তথ্য অনুসারে, 'শ্রম বিধিমালা' বা 'লেবার কোডস'-এর আওতায় জাতীয় পর্যায়ে ন্যূনতম মজুরি পুনর্বিন্যাস বা সংশোধনের প্রক্রিয়া বর্তমানে জারি রয়েছে।
















