আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। ভোট বৈতরণী পার করেছেন। রাজনৈতিক বহু বিষয় নিয়ে বিতর্কের বাইরে এবার অন্য বিতর্কে নীতীশ। সাম্প্রতিক একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ঝড়ের গতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও ওই ভিডিও'র সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। তবে একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে প্রচারিত ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে, মহিলা চিকিৎসককে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পরেই, তাঁর হিজাব টেনে নামিয়ে দেন। জিজ্ঞাসা করেন, 'এটা কী?' স্বাভাবিকভাবেই ওই ঘটনায় বেশ হকচকিয়ে পড়তে দেখা যায় মহিলা চিকিৎসককে। তিনি তৎক্ষণাৎ সরে যান। বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রীকেও, মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে থামিয়ে নিতে দেখা যায়।

স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড়। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই নীতীশ কুমারকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করতে শুরু করেছেন। নীতীশকে একহাত নিয়েছে হাত শিবির। কংগ্রেস নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নীতীশ কুমারের 'মানসিক স্থিতি' নিয়ে জোর সওয়াল করেছেন। হাত শিবির সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছে, 'বিহারের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি প্রকাশ্যে এমন জঘন্য কাজ করছেন। ভাবুন তো রাজ্যে মহিলারা কতটা নিরাপদ থাকবে?' নীতীশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে কংগ্রেস।

কটাক্ষ করতে ছাড়েনি আরজেডি'ও। আরজেডি মুখপাত্র এজাজ আহমেদ বলেছেন, 'নীতীশ কুমারের হিজাব খুলে ফেলা জেডিইউ-বিজেপি জোটের নারীদের প্রতি মনোভাব প্রকাশ করে।' তিনি বলেন, 'পর্দা পালনকারী একজন মুসলিম মহিলার মুখ থেকে হিজাব সরিয়ে তিনি (কুমার) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নারীর ক্ষমতায়নের নামে জেডিইউ এবং বিজেপি কোন ধরণের রাজনীতিতে লিপ্ত হচ্ছে। একজন মহিলার হিজাব এভাবে সরিয়ে ফেলা, একজনের সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা অনুসারে জীবনযাপনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি কাজ।' 

 বিহার ভোটের আগেও, এক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন নীতীশ কুমার। নভেম্বরে বিহার নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে, জনসভায় একজন মহিলাকে মালা পরানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর, প্রবল বিতর্ক তৈরি হয় বর্ষীয়ান রাজনীতিককে ঘিরে। ওই ঘটনার উল্লেখ করে, জন সূরজের প্রতিষ্ঠাতা, এক সময়ের ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর তখনও একবার নীতীশ কুমারের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও এই ঘটনার পর থেকে কংগ্রেস, আরজেডি সুর চড়ালেও, এখনও পর্যন্ত নীতীশ কুমারের দলের কিংবা গেরুয়া শিবিরের নেতাদের কোনও মন্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি।