আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন বছরের শুরুতেই ধাক্কার মুখে পড়ল ভারতের চলতি বছরের প্রথম মহাকাশ মিশন। সোমবার শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে সফলভাবে উৎক্ষেপণ হলেও মাত্র আট মিনিটের মধ্যেই গুরুতর প্রযুক্তিগত ত্রুটির শিকার হতে হল পিএসএলভি-সি৬২ রকেটকে।

ইসরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উডান প্রক্রিয়া ঠিকমতো শুরু হলেও রকেটের তৃতীয় ধাপে আকস্মিক অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। চেম্বার প্রেসার হঠাৎ কমে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় থ্রাস্ট তৈরি হয়নি।

যার ফলে নির্ধারিত কক্ষপথ থেকে সরে যায় রকেটটি। ইসরো চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়গুলি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল।

কিন্তু তৃতীয় ধাপে অপ্রত্যাশিত ভাবে প্রেসার কমে যাওয়ার কারণে রকেটের গতিপথে বড় বিচ্যুতি ঘটে। এর ফলে স্যাটেলাইটগুলিকে যথাযথ কক্ষপথে রাখা যায়নি।’

এই মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল ডিআরডিও-র বিশেষ নজর রাখার উপগ্রহ ‘অন্বেষা’। এর সঙ্গে আরও ১৫টি ক্ষুদ্র উপগ্রহ ছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ছোট উপগ্রগুলি মহাকাশে হারিয়ে গিয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ইসরোর পিএসএলভির তৃতীয় ধাপের প্রক্রিয়ায় ব্যর্থতা এই প্রথম নয়। উৎক্ষেপণের প্রথম কয়েক মিনিট ছিল নিখুঁত। নির্ধারিত সময়েই বুস্টার সহ রকেট পৃথিবী ছাড়ে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছিল। তবে তৃতীয় ধাপ সক্রিয় হওয়ার পরই ইসরোর কন্ট্রোল রুমে উচ্ছ্বাসের জায়গা নেয় নিস্তব্ধতা। নারায়ণন আরও জানান, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হচ্ছে।

গতবারের ব্যর্থতার মতোই, ফ্লেক্স নোজল, প্রপেল্যান্ট ত্রুটি বা কেসিং সংক্রান্ত সমস্যার দিকগুলি খতিয়ে দেখা হবে। ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি নারায়ণন জানান, সমস্ত টেলিমেট্রি ও ফ্লাইট ডেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষণ শেষ হলেই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। আপাতত পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। এদিন সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে উৎক্ষেপণ হয় পিএসএলভি-র ৬৪তম মিশন PSLV-C62।

এই উৎক্ষেপণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৫ সালে পিএসএলভি-র একটি মিশনে ব্যর্থতার পর এটিই ছিল রকেটটির বড় প্রত্যাবর্তনমূলক অভিযান। PSLV-C62 মিশনে মোট ১৫টি উপগ্রহ বহন করা হচ্ছিল।

এর মধ্যে প্রধান ছিল EOS-N1, পাশাপাশি প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) তৈরি নজরদারি উপগ্রহ ‘অন্বেষা’। পরিকল্পনা অনুযায়ী EOS-N1 এবং আরও ১৪টি সহযাত্রী উপগ্রহকে সূর্যসমলয় কক্ষপথে (Sun Synchronous Orbit) স্থাপন করার কথা ছিল।

অন্যদিকে স্পেনের Kestrel Initial Demonstrator (KID) উপগ্রহটির নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল বায়ুমণ্ডলে নতুন করে  প্রবেশের পথে পাঠানো। ‘অন্বেষা’ উপগ্রহটি অত্যাধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তিতে সজ্জিত।

এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থানের উপর নজরদারি এবং মানচিত্র তৈরির ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছিল।

এই মিশন ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে ধরা হচ্ছিল। প্রথমবারের মতো, হায়দরাবাদ-ভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা 'ধ্রুব স্পেস' একাই পিএসএলভি মিশনে সাতটি উপগ্রহ সরবরাহ করেছে।

এতে ভারতের ক্রমবর্ধমান বেসরকারি মহাকাশ উদ্যোগের শক্তিশালী উপস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এখন সকলের নজর ইসরোর বিশ্লেষণ রিপোর্টের দিকে।

প্রযুক্তিগত সমস্যার প্রকৃতি কী এবং তার প্রভাব মিশনের লক্ষ্যে কতটা পড়েছে তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত PSLV-C62 অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।