আজকাল ওয়েবডেস্ক: উঠেছিল প্রসব যন্ত্রণা। কর্তৃপক্ষের কাছে চেয়েছিলেন ছুটি। কিন্তু মেলেনি তা। ফলে গর্ভেই হারাতে হল সন্তানকে। ঘটনাচক্রে সেই কর্তৃপক্ষ একজন মহিলা। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশায়। 

 

 

বর্ষা প্রিয়দর্শিনী নামে ২৬ বছর বয়সী ওই মহিলা সরকারি কর্মচারী বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার দিন তিনি ছিলেন কেন্দ্রাপাড়া জেলায় সরকারি অফিসে। হঠাৎই শুরু হয় অসহ্য পেটে ব্যথা। প্রসব যন্ত্রণা উঠেছে বুঝতে পেরে সেখানকার শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা বা সংক্ষেপে এসডিপিওকে তিনি জানান বিষয়টি। কিন্তু তাতে নির্বিকার ছিলেন তিনি। মেলেনি ছুটি। ফলে গর্ভস্থ সন্তান মারা যায় গর্ভেই। সে আর দেখতে পেল না পৃথিবীর আলো। 

 

 

জেলার দরাবিশ ব্লকের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতরের কর্মী বর্ষা জানান, তাঁর চলছিল গর্ভাবস্থার সপ্তম মাস। কর্মক্ষেত্রে আসার কিছু পরেই তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। ওই অফিসের এসডিপিও একজন মহিলা, নাম স্নেহলতা সাহু। 

 

 

তাঁর ক্ষোভ, এসডিপিও উপস্থিত ছিলেন কর্মক্ষেত্রে। তাঁকে এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তারা সেই আবেদন উপেক্ষা করে। এমনকী স্নেহলতা তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও দাবি করেছেন বর্ষা। এই মানসিক হয়রানি এবং চরম অবহেলার কারণেই ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। 

 

 

পরে বর্ষার আত্মীয়েরা তাঁকে কেন্দ্রাপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করে জানা যায়, তাঁর শিশুটি গর্ভেই মারা গিয়েছে।

 

 

সাহুর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা কালেক্টরের কাছে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন বর্ষা। বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা এডিএম নীলু মহাপাত্র জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর, জেলা সমাজ কল্যাণ আধিকারিককে (ডিএসডব্লিউও) বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ 

 

 

অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় সিডিপিও -এর অবশ্য দাবি, তিনি বর্ষার কষ্টের কথা কিছুই জানতেন না।