আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেওয়াল লিখন স্পষ্ট, নীতীশ কুমার ইস্তফা দিলেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন বিজেপির কোনও মনোনিত ব্যক্তি। পাল্লা ভারী উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরির। যা হয়তো মেনে নিতে পারছেন না জেডিইউ-এর একাংশের কর্মী, সমর্থকরা। পাটনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় পোস্টারে পোস্টারে ছয়লাপ। সেখানে নীতীশ পুত্র নিশান্ত কুমারকে উদ্দেশ্য করে লেখা রয়েছে 'বিহারের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী'। জানা গিয়েছে, রবিবার ভোরে "নীতীশ সেবক" হিসেবে নিজেদের তুলে ধরে একদল জেডিইউ সমর্থক এই পোস্টারগুলো টাঙিয়েছেন। পোস্টারগুলোতে নিশান্ত কুমারকে সক্রিয় রাজনীতিতে আসার এবং নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একটি পোস্টারে হিন্দিতে লেখা রয়েছে, "আমাদের বুলডোজারের প্রয়োজন নেই, বিহারে দাঙ্গা বা অশান্তিরও প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রয়োজন একজন লোকনায়ক। এখন সময় এসেছে তাঁর ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার। আমাদের প্রয়োজন তরুণ নেতা নিশান্ত কুমারকে।"
পোস্টারগুলোতে দলের বেশ কয়েকজন নেতার ছবির পাশাপাশি এমন বার্তাও ছিল, যা নিশান্ত কুমারকে রাজ্যের পরবর্তী নেতা বা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরছে। এছাড়াও সেখানে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, রাজ্যের "বুলডোজার" রাজনীতি বা অশান্তির প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব যা একজন "লোকনায়ক"-এর আদর্শে তৈরি।
এই পোস্টার জেডি(ইউ)-এর নির্দিষ্ট কিছু কর্মীর মনে কথার ইঙ্গিত। দলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রতিনিয়ত বদল হতে থাকলেও, এই কর্মীরা নীতীশ কুমারের পরিবারের মাধ্যমেই নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগ্রহী।
বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে জল্পনা-কল্পনা
নীতীশ কুমারের পরে বিহারকে নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই পোস্টারগুলো টাঙানো হয়েছে। রাজ্যের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে ঘোষণার অপেক্ষায় যখন সবাই প্রহর গুনছে, ঠিক সেই মুহূর্তে রবিবার পাটনায় নীতীশ কুমারের বাসভবনে যান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। যদিও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি, করা হয়নি, তবুও জল্পনা চলছে যে- বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী সম্ভবত ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র কেউ হতে পারেন।
জানা গিয়েছে, জেডি(ইউ)-এর অভ্যন্তরে মতপার্থক্য বা বিরোধ এখনও অব্যাহত , বিশেষক রে নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় যাওয়ার পর থেকে। দলের কোনও কোনও সদস্য অবশ্য দাবি তুলেছেন যে, নিশান্ত কুমারকেই নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত।
রবিবার সকালে জেডি(ইউ)-এর কর্মীরা পাটনার বিভিন্ন স্থানে পোস্টার টাঙিয়ে নিশান্ত কুমারকে "বিহারের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী" করার দাবি জানান। এর মধ্য দিয়ে দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি প্রজন্মগত পরিবর্তনের প্রত্যাশাকারী সমর্থকদের দাবিরই প্রতিধ্বনি শোনা গেল।
গত ১০ এপ্রিল রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন নীতীশ কুমার। এর মধ্য দিয়ে ভারতের প্রতিটি আইনসভায় (বিহার বিধানসভা, বিহার বিধান পরিষদ, লোকসভা এবং বর্তমানে রাজ্যসভা) দায়িত্ব পালনের তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হল। উচ্চকক্ষে তাঁর এই পদার্পণকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিহারের ক্ষমতার সমীকরণকে নতুন রূপ দিতে পারে।
নীতীশ কুমারের এই অবস্থান পরিবর্তন কার্যত বিহার সরকারের পরিচালনার ভার বিজেপির হাতে তুলে দিল, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোর আগে ক্ষমতাসীন ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চা’ (এনডিএ)-এর অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
গত ২৮ মার্চ নীতীশ কুমার যাতে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে না দাঁড়ান, সেই মর্মে তাঁর সমর্থকরা তাঁর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন।
জেডি(ইউ)-এর জাতীয় সভাপতি হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন পোস্টারে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা প্রদর্শিত হতে দেখা যায়। পাশাপাশি সেই বার্তাগুলোতে নিশান্ত কুমারকে বিহারের ‘ভবিষ্যৎ মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছিল।
















