আজকাল ওয়েবডেস্ক: গতকাল মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নেপথ্যে চালকের ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তের পর মনে করা হচ্ছে, দৃশ্যমানতা কম থাকা সত্ত্বেও বারামতী বিমানবন্দরে নামার চেষ্টা করতে গিয়েই এই বিপর্যয় ঘটে। একইসঙ্গে যান্ত্রিক ত্রুটির দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার ভোরে ‘লিযারজেট ৪৫ এক্সআর’ বিমানটি বারামতীতে নামার সময় ভেঙে পড়ে আগুন ধরে যায়। এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার-সহ বিমানে থাকা পাঁচজনেরই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, বারামতীতে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা খুব কম ছিল। বিমানটি একবার নামতে ব্যর্থ হয়ে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করে। এক আধিকারিক জানান, "চালকের উচিত ছিল বিমানটি পুণেতে ঘুরিয়ে দেওয়া। কিন্তু তিনি বারামতীতেই নামার জেদ ধরেছিলেন। শেষ মুহূর্তে যখন তিনি বিমানটিকে রানওয়ের সঙ্গে মেলাতে যান, তখন গতিবেগ ও অবস্থানের ভুলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।"

অভিজ্ঞ পাইলটদের মতে, বারামতীর মতো ছোট বিমানবন্দরে যেখানে পর্যাপ্ত দিকনির্দেশ ব্যবস্থা নেই, সেখানে দৃশ্যমানতা কম থাকলে নামার চেষ্টা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাভাবিক নিয়মে ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমানতা প্রয়োজন হলেও, বুধবার তা ছিল মাত্র ৩ কিলোমিটার।

দিল্লির একটি বেসরকারি সংস্থার ওই বিমানে চড়ে গতকাল সকাল ৮টায় মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন পাওয়ার। ভোটের প্রচারে চারটি সভা করার কথা ছিল তাঁর। সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ জরুরি অবতরণের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পাওয়ারের সঙ্গে তাঁর দেহরক্ষী, সহকারী এবং দুই চালক- সুমিত কাপুর ও শাম্ভবী পাঠকেরও মৃত্যু হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে বিমানের ‘ব্ল্যাক বক্স’ উদ্ধার করেছে তদন্তকারী দল। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে। 

প্রশাসন সূত্রে খবর, বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ মুম্বই থেকে ‘লিয়ারজেট ৪৫’ বিমানে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারই এক জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ওড়ার ঘণ্টাখানেক পরেই ঘটে বিপত্তি। সকাল ৯টা নাগাদ অবতরণের ঠিক আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আছড়ে পড়ে বিমানটি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় সেটিতে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল কেবল দুমড়ে–মুচড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ আর কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া দেখতে পায়।

এটা ঘটনা, মহারাষ্ট্রের এই অঞ্চলে বিমান বা হেলিকপ্টার বিভ্রাট এই প্রথম নয়। গত অক্টোবর মাসেই এনসিপি নেতা সুনীল তটকরেকে আনতে গিয়ে একটি হেলিকপ্টার ভেঙে পড়েছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বারামতীতে এর আগেও একাধিকবার জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে ভিভিআইপিদের।

অজিত পাওয়ার মানেই ছিল মহারাষ্ট্র রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। পৃথ্বীরাজ চৌহান থেকে একনাথ শিন্ডে সহ চারজন মুখ্যমন্ত্রীর আমলেই তিনি উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৯১ সালে কাকা শরদ পাওয়ারের ছেড়ে দেওয়া বারামতী বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই তাঁর উত্থান। তারপর টানা সাতবার সেখান থেকে জিতে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। ২০১৯ সালে এনসিপিতে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপির হাত ধরা কিংবা ২০২৪–এ লড়াই করে দলের নাম ও প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়া–বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। এই আকস্মিক মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া।