আজকাল ওয়েবডেস্ক: সংসদের বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্রের তিনটি বিল পেশ নিয়ে বিরোধীদের কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি, বিরোধীদের আশ্বাসও দিলেন তিনি।
এদিন সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে নাম না করে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতকে একটা দেশ হিসেবে দেখি, টুকরো টুকরো করে নয়।’
পুনর্বিন্যাস বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এতে কারওর প্রতি অন্যায় হবে না।’ উল্লেখ্য, এই বিল নিয়ে দক্ষিণের রাজ্যগুলি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। কারণ, তাদের মতে উত্তর ভারতের হিন্দিভাষী রাজ্যগুলি যেগুলি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে মনে করা হয়, সেখানে আসন সংখ্যা বাড়তে পারে, ফলে কেন্দ্রের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনও এদিন কেন্দ্রকে এই বিল পেশ নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন।
লোকসভায় প্রায় ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধির প্রস্তাবসহ মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অতীতে এর বিরোধিতা করেছিলেন দেশের মহিলারা তাঁদের ক্ষমা করেননি। পরবর্তী নির্বাচনে তারা খারাপ ফল করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ যেন আমরা হাতছাড়া না করি। আমি সকলের কাছে আবেদন করছি, এটাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিতে দেখুন।’
মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘এটা ২৫-৩০ বছর আগেই কার্যকর হওয়া উচিত ছিল। যদি তখনই এটা বাস্তবায়ন করা যেত, তবে আজ আমরা আরও পরিণত দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারতাম।’
বিরোধীদের তুমুল হই-হট্টগোলের পরেও সংসদে তিন বিল পেশ করল কেন্দ্র। ভোটাভুটিতেও হার মানতে হল বিরোধীদের। বৃহস্পতিবার সংসদে কেন্দ্রের প্রস্তাবিত মহিলা আসন সংরক্ষণ বিল, আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল পেশ করা হয়।
এদিন অধিবেশনের শুরুতে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল লোকসভায় সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল উপস্থাপনের প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল উপস্থাপন করেন।
কংগ্রেস সাংসদ কে.সি.ভেনুগোপাল এই তিনটি বিলই পেশ করার বিরোধিতা করেন। বিরোধীদের তরফে ভোটাভুটির আবেদন করা হয়। প্রথমে স্পিকার সেই পরামর্শে রাজি হননি।
তবে পরে বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলের পরে তিনি রাজি হন। ভোটাভুটিতে দেখা যায়, বিল পেশের পক্ষে ২০৭টি ভোট পড়েছে। অন্যদিকে, বিপক্ষে মোট ১২৬টি ভোট পড়েছে।
জানা গিয়েছে, সংসদে এদিন বিরোধী এবং শাসক শিবিরের বহু সাংসদই অনুপস্থিত ছিলেন। শাসক দল এনডিএ-র অন্তত ৮৬ জন সাংসদ এদিন অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
ইন্ডিয়া জোটেরও অনেকে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এদিন কেন্দ্রের পেশ করা তিনটি বিলের মধ্যে আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়েই মূলত তীব্র বিরোধিতা করছে বিরোধীরা। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন সহ একাধিক বিরোধী শিবির এই বিল পেশের বিরোধিতা করেন এদিন।
এই বিলের মাধ্যমে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করতে চাইছে কেন্দ্র। এই বিল পাশ হলে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হবে। যার এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের জন্য।
















