আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং এর প্রভাব দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে—এমনই সতর্কবার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত ইতিমধ্যেই জ্বালানি সঙ্কট তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় সমস্যা তৈরি করেছে। ভারতের ক্ষেত্রেও এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আমাদের বাণিজ্যপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস ও সার সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।” তিনি আশ্বাস দেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং দেশের ওপর এর প্রভাব কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের অর্থনীতির ভিত মজবুত। প্রতিটি পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির দিকে সরকার সতর্ক নজর রাখছে এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।” এই সঙ্কটকে ভিন্নধর্মী বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মোকাবিলাও আলাদা কৌশলে করতে হবে এবং ধৈর্য, সংযম ও শান্ত মাথায় পরিস্থিতি সামলাতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা
প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে দেন, এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধের প্রভাব অনেকদিন ধরে অনুভূত হবে।” তবে একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে।
রাজ্যগুলিকে কড়া পদক্ষেপের আহ্বান
এই পরিস্থিতিতে কালোবাজারি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে রাজ্যগুলিকে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি দরিদ্র ও পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন। কোভিড-১৯ সময়কার সমন্বিত পদক্ষেপের উদাহরণ টেনে তিনি “টিম ইন্ডিয়া” হিসেবে একসঙ্গে কাজ করার উপর জোর দেন।
জ্বালানি ও নৌপথে বাড়ছে উদ্বেগ
হরমুজের পরিস্থিতিকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বিশ্বের বহু জাহাজ সেখানে আটকে রয়েছে এবং তাতে বহু ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। ভারত কূটনৈতিক স্তরে কাজ করছে যাতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং উত্তেজনা কমে।
প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার
উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস করেন। তাঁদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৩.৭৫ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় নিরাপদে দেশে ফিরেছেন, যার মধ্যে ইরান থেকে ১,০০০-এর বেশি মানুষ, এবং তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭০০ জন চিকিৎসা পড়ুয়া।
কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “মানুষের জীবনের ক্ষতি কোনওভাবেই মানবতার পক্ষে নয়।” সরকার একাধিক উৎস থেকে তেল ও গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। গত ১১ বছরে ভারত ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন কৌশলগত তেল ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে এবং আরও ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন বাড়ানোর কাজ চলছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে—এমনই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
