আজকাল ওয়েবডেস্ক: ধরুন আপনি ব্যাঙ্কে বড় অঙ্কের টাকা রাখতে গেলেন। ব্যাঙ্ক থেকে অনেকগুলো ফর্ম দিল, ফিল আপ করার জন্য। আপনি আপনার ব্যক্তিগত সমস্ত ডিটেল দিলেন। তারপর একদিন অপরিচিত একজন ঝালমুড়ির ঠোঙায় দেখতে পেলেন আপনার সেই ফর্ম। কেমন লাগবে?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইরকম একটি ঘটনার কথা এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন একজন। পোস্ট দাতার নাম শুভাংশু আম্ভোর। তিনি লিখেছেন, “২০ টাকার মশলা মুড়ি মাখা কিনেছিলাম। রাস্তার ধারের একটি দোকান থেকে। দেখি একজন ব্যক্তির ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্টে করে দিল আমাকে। সেখানে ব্যক্তিটির নাম রয়েছে, অ্যাকাউন্ট নম্বর রয়েছে,অর্থ লেনদেনের ব্যাপারে সমস্ত কিছু লেখা রয়েছে… গোপনীয়তা বজায় রাখা ভারতে একটা খিল্লি হয়ে গিয়েছে।”
পোস্টে তিনি ছবিও শেয়ার করেছেন। সেখানে ঝাপসা করে দিয়েছেন যদিও ব্যক্তিটির নাম ঠিকানা। কিন্তু ব্যাঙ্কের নাম দেখা যাচ্ছে, টাকা লেনদেনের ইতিহাস দেখা যাচ্ছে। এই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়। নেটিজেনেরা নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে ফাঁস হওয়ার ভয় পেয়েছেন। সে কথা তাঁরা কমেন্ট বক্সে লিখে জানিয়েছেন।
শুধু তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয় নয়, হাইজিনের চিন্তাও করেছেন কেউ কেউ। কিছু নেটিজেন কৌতুক করে লিখেছেন, “আমি তো শুনেছি ডাক্তারের প্রেস্ক্রিপশনও এভাবে মুড়ির ঠোঙা হয়ে যায়। আমার তো মনে হয় আমাদের উচিত ঝাল মুড়ির দোকানদারকে র’এর এজেন্ট বানিয়ে দেওয়া।”
অপরজন লিখেছেন, “এরকম ঘটনা একবার আমার সঙ্গেও ঘটেছিল। আমি একটা অন্য জিনিস গুগলে সার্চ করছিলাম। একজন ব্যক্তির পে স্লিপ সাজেশোনে এসেছিল। নাম-ধাম, কত টাকা মাইনে পান ইত্যাদি সমস্ত কিছু লেখা রয়েছে।”
কেউ কেউ মজা করে লিখছেন, “ছবি দেখে তো মোটেই এটাকে ঝাল মুড়ি বলে মনে হচ্ছে না। এটাতে তো পাঁপড়ি চাটের পাঁপড়িও দেখছি। এটাকে বিশুদ্ধ ঝাল মুড়ি বলা চলে না তাহলে।” একজন লিখেছেন, “অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এটা অনলাইনে ফিল আপ করা ফর্ম। পরে পিডিএফ ডাউনলোড করা হয়েছে।”
কেউ কেউ ভিতি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মন্তব্য, “এভাবে ব্যক্তিগত তথ্য এর তার হাতে ঘুরে বেড়ালে তো স্ক্যাম করতে পারে লোকজন!” বহু ব্যবহারকারী এই বক্তব্যকে সমর্থনও করেছেন। কেউ কেউ সমর্থন করেই লিখেছেন, “এরপর থেকে তো ব্যাঙ্ক থেকে ফোন এলেও সন্দেহ হবে। হতেই পারে কেউ রাস্তার ধারে ঝালমুড়ি খেতে গিয়ে হঠাৎ করে খুঁজে পেয়েছে আমার ব্যাঙ্কের ডিটেলস! কী ভয়ঙ্কর!”















