আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিমানে হেডফোন ছাড়া জোরে গান বাজিয়ে সহযাত্রীদের বিরক্ত করছেন? সাবধান! এই অভব্য আচরণের জন্য এবার শ্রীঘরেও যেতে হতে পারে। বিমানের ভেতর শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র।

সম্প্রতি লোকসভায় নমক্কল কেন্দ্রের সাংসদ ভি এস মাথেশ্বরনের এক প্রশ্নের জবাবে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহল জানান, বিমানে অভব্য আচরণ রুখতে ১৯৩৭ সালের ‘এয়ারক্রাফট রুলস’-এ স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। যদিও উচ্চশব্দে গান বাজানোর জন্য আলাদা কোনও আইন নেই, কিন্তু এই ধরনের কাজ যদি যাত্রীদের নিরাপত্তা বা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে তা ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হিসেবেই গণ্য হবে।

নিয়মে যা থাকছে: 

যাত্রীদের আচরণ নিয়ে কড়া বিধিমালা মনে করিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী। নিয়ম অনুযায়ী:

বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া: কোনও যাত্রীর ব্যবহার অশোভন বা বিপজ্জনক মনে হলে বিমান সংস্থা তাঁকে নামিয়ে দিতে পারে।

পাইলটের ক্ষমতা: বিমানের শৃঙ্খলা রক্ষায় পাইলট-ইন-কমান্ড প্রয়োজনে যে কোনও যাত্রীকে আটকে রাখা বা কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখেন।

জরিমানা ও শাস্তি: নিয়ম ভাঙলে কড়া আর্থিক জরিমানা বা আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে।

ছাড় কোথায়, কড়াকড়ি কোথায়?

মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, বিমান সংস্থাগুলি যাত্রীদের স্বাগত জানাতে যে মৃদু যন্ত্রসংগীত বাজায় বা বিমানের নিজস্ব স্ক্রিনে যা দেখানো হয়, তা এই নিয়মের আওতায় পড়ছে না। মূল নিশানায় সেই সব যাত্রীরা, যাঁরা হেডফোন ছাড়াই মোবাইলে বা স্পিকারে জোরে গান চালিয়ে অন্যদের বিরক্তির কারণ হন।

পাশাপাশি, বিমানে বা বিমানবন্দরে ভিডিও ব্লগিং এবং ছবি তোলার ক্ষেত্রেও রাশ টেনেছে সরকার। জানানো হয়েছে, আগাম অনুমতি ছাড়া উড়ন্ত বিমান থেকে ছবি তোলা বা ভিডিও করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সোজা কথায়, বিমানে চড়ে নিজের খেয়ালখুশি মতো আওয়াজ করে অন্যের অস্বস্তি বাড়ানো আর চলবে না। সফর হোক শান্ত ও মার্জিত- আকাশপথে এটাই এখন কেন্দ্রের মূল মন্ত্র।