আবু হায়াত বিশ্বাস: সোমবার থেকে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এই অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস সহ বিরোধী শিবির। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের।
রবিবার বিকেলে কংগ্রেসের সংসদীয় রণকৌশল গোষ্ঠীর বৈঠক হতে চলেছে ১০ জনপথে সংসদীয় দলনেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে। এই বৈঠকের লক্ষ্য, অধিবেশনকালে দলের সার্বিক কৌশল নির্ধারণ করা। গত অধিবেশনে এসআইআর ইস্যুতে গোটা বিরোধী শিবির ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংসদের ভেতর ও বাইরে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। শীতকালীন অধিবেশনেও এই ইস্যুটিকে সামনে রেখে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করতে উদ্যোগী বিরোধী শিবির।
রবিবার কংগ্রেসের সংসদীয় রণকৌশল গোষ্ঠীর বৈঠকের পর সোমবার সকালে সংসদ ভবনে মল্লিকার্জুন খাড়গের ঘরে বিরোধী দলগুলির সংসদীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসদে বিরোধী শিবিরের সমন্বয় ধরে রাখতে কংগ্রেস নেতৃত্ব বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে বিরোধী ঐক্য আদৌ দেখা যাবে কিনা সংশয়ও আছে। কারণ, তৃণমূল এবার হাত শিবিরকে এড়িয়ে চলতে পারে। সূত্রের দাবি, এবারে শীতকালীন অধিবেশনে কংগ্রেসকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে না তৃণমূল। সোমবার সকালে বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের ঘরে বৈঠকে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
জানা গিয়েছে, কংগ্রেস শীতকালীন অধিবেশনে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা প্রশ্নে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে চায়। বিহার-সহ সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনে অনিয়ম, তথাকথিত কারচুপি এবং বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলবে হাত শিবির। দলের নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন জোটের বিরুদ্ধে ‘নীরব অদৃশ্য রিগিং’-এর অভিযোগ তুলেছেন।
যদিও কমিশন দাবি করছে, এসআইআর একটি স্বচ্ছ ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া।
জানা গিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুও শীতকালীন অধিবেশনে কংগ্রেসের অগ্রাধিকারে থাকবে। ১০ নভেম্বরের লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণ ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে সরকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে দল। পহেলগাঁও হামলার পর সরকারের ঘোষিত ‘নিউ নর্মাল ডকট্রিন’ কি ১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণের ঘটনাতেও প্রযোজ্য হবে—এ প্রশ্ন তুলতে চলেছে কংগ্রেস। পাশাপাশি বেকারত্ব, আয় বৈষম্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, বৈদেশিক নীতি এবং প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার দাবি জোরালো হবে।
জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি ‘মধ্যস্থতা’ সংক্রান্ত মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে কংগ্রেস চাপ দেবে। নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থার মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগও জোরালোভাবে উঠবে। মহিলা ও তফসিলি জাতির ওপর বাড়তে থাকা অপরাধ, এবং জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবিও জানাবে। কংগ্রেসের সংসদীয় রণকৌশল গোষ্ঠীর লক্ষ্য, দলীয় সাংসদদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি, ইন্ডিয়া শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং শীতকালীন অধিবেশনে সরকারকে জবাবদিহিতে বাধ্য করা।
