আজকাল ওয়েবডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী এলাকায় ফের রহস্যময় বেলুন উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আখনুর জেলার খৌর থানার অধীন নিলি নাল্লাহ এলাকার গুনারা গ্রামে দুটি বেলুন উদ্ধার করেছে পুলিশ। বেলুন দু’টিতে পাকিস্তানের একটি মোবাইল নম্বর এবং স্ক্যানার কোডের মতো একটি মুদ্রিত চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলুনগুলির সঙ্গে পাকিস্তানি ও মার্কিন মুদ্রার কিছু নোটও পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে—এই বেলুনগুলির উৎস কী, কেন তাতে বিদেশি নম্বর ও কোড ছাপানো ছিল, এবং এর পেছনে কোনও আন্তঃসীমান্ত যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। সীমান্ত এলাকায় এর আগেও এ ধরনের বেলুন বা সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাইয়ের পরেই আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এই ঘটনার একদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের আগ্রা শহরে ভারতীয় বায়ুসেনার টেকনিক্যাল এলাকায় একটি বিমান-আকৃতির সবুজ-সাদা রঙের বেলুন উদ্ধার হয়। ওই বেলুনে Pakistan International Airlines-এর নাম লেখা ছিল।
সহকারী পুলিশ কমিশনার গৌরব সিং জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি শাহগঞ্জ থানায় ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়। বেলুনটির সঙ্গে একটি সুতো বাঁধা ছিল। তবে তল্লাশিতে কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক যন্ত্রাংশ মেলেনি বলে জানানো হয়েছে।
এর মধ্যেই গত ১১ ও ১২ জানুয়ারি জয়সলমীর এবং জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তান থেকে আসা সন্দেহভাজন ড্রোন দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষকে ড্রোন অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা জানানো হয়েছে। ১৩ জানুয়ারি সেনাপ্রধান জানান, জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি সংবেদনশীল হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে গত শুক্রবার উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার নওগাম সেক্টরের টুট মার গালি (TMG) এলাকায় সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। কর্মকর্তাদের দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পোস্ট থেকে ভারতীয় পোস্ট লক্ষ্য করে ছোট অস্ত্রে গুলি চালানো হয়। কিছুক্ষণ পর গুলি থেমে যায়। এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই।
সাম্প্রতিক বেলুন ও ড্রোন সংক্রান্ত ঘটনাগুলির জেরে সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। গুনারা গ্রামে উদ্ধার হওয়া বেলুনের ঘটনা নিছক কৌতুক না কি এর পেছনে বড় কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে—তা নিয়ে এখন জোর তদন্ত চলছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের ছোট ঘটনা কখনও কখনও বড় বার্তার ইঙ্গিতও বহন করতে পারে।
