আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত নিয়ে সংসদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত সরকার। সোমবার সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানালেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত বর্তমানে বড় আকার নিয়েছে।

একদিকে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অন্যদিকে ইরান জড়িয়ে পড়েছে। এমনকী, উপসাগরীয় অঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, এই সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

এই ঘটনার বলি হয়েছেন ইরানের শীর্ষনেতৃত্বও। তবে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। বিদেশমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন।

এছাড়া ইরানেও কয়েক হাজার ভারতীয় পড়াশোনা সূত্রে বা কর্মসূত্রে রয়েছেন। এই অঞ্চল ভারতের জ্বালানিক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের দ্রুত সম্ভব দেশ ছাড়ার পরামর্শও দেয়। জানা গিয়েছে, অনেকেই সেই নির্দেশ মেনে দেশ ছেড়েছেন, তবে এখনও বহু ভারতীয় সেখানে রয়ে গেছেন।

জয়শঙ্কর জানান, সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরানে থাকা কয়েকজন ভারতীয় পড়ুয়াকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়িক কারণে বসবাসকারী কিছু ভারতীয়কে আর্মেনিয়া হয়ে দেশে ফেরার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত প্রায় ৬৭ হাজার ভারতীয় ওই অঞ্চল থেকে দেশে ফিরেছেন। বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ৭ মার্চ ৫১টি, ৮ মার্চ ৪৯টি এবং ৯ মার্চ ৫০টি ইনবাউন্ড ফ্লাইট ভারতে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক হয়। সেখানেও ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

তবে এদিন জানানো হয়, পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বুঝে আগেই ভ্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ৫ জানুয়ারি বিদেশমন্ত্রক ভারতীয় নাগরিকদের ইরানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।

পরে ১৪ জানুয়ারি আরও কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়। বিদেশমন্ত্রী আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন এবং ইজরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন।

প্রতিটি দেশই সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও বিভিন্ন দেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

বর্তমানে জ্বালানি আমদানি নিয়ে ভারতের বাজারে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এস জয়শঙ্কর এদিন বলেন, ‘চলতি সংঘাতের কারণে জ্বালানির বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত। ভারতীয় নাগরিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’