আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিম্নকক্ষে (লোকসভা) কংগ্রেসের আট সাংসদকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত ঘিরে বুধবার সংসদ চত্বরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, সরকার পরিকল্পিতভাবে ভিন্নমত দমন করছে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে।

সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের মধ্যে অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং ও গুরজিত সিং আউজলা সংসদ ভবনের ভেতরে মকর দ্বারের কাছে বিক্ষোভে যোগ দেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কীর্তি আজাদ। বিরোধী শিবিরের সংহতির বার্তা দিতে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও।

বিরোধী নেতাদের দাবি, শাসক দল সংসদের ভেতরে ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনা বন্ধ করে দিচ্ছে এবং বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে। এই প্রতিবাদের সূত্রপাত হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টুর একটি মন্তব্যকে ঘিরে। প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ বিট্টু, যিনি পরে বিজেপিতে যোগ দেন, নাকি সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের কটাক্ষ করে বলেন, তারা যেন “যুদ্ধ জিতে” ফিরেছেন—এই মন্তব্যকে বিরোধীরা অবমাননাকর বলে অভিহিত করেন।

রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং বলেন, কংগ্রেসই রবনীত বিট্টুকে রাজনৈতিকভাবে তৈরি করেছে এবং তাঁর মন্তব্য আসলে কংগ্রেসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিফলন। ওয়ারিংয়ের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য সংসদীয় গণতন্ত্র ও শালীনতার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ করে।

গুরজিত সিং আউজলাও একই সুরে বলেন, লোকসভা কোনও শাসক দলের ব্যক্তিগত মঞ্চ নয়, এটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য তৈরি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাঁর অভিযোগ, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে এবং সংসদীয় জবাবদিহি নষ্ট করছে।

&t=2s

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদ আরও কড়া ভাষায় সরকারকে আক্রমণ করেন। তাঁর কথায়, “এটা গণতন্ত্র হত্যা।” আজাদের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে বিরোধী সাংসদদের কাউকেই সংসদে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকার নিজের শর্তে সংসদ চালাতে চাইছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নরবণে-কে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে কীর্তি আজাদ বলেন, এটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত বিষয়, অথচ সরকার সেই ইস্যুতেও আলোচনা বন্ধ করে দিচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ সংসদের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার লোকসভায় ‘অশালীন আচরণ’-এর অভিযোগে কংগ্রেসের আটজন সাংসদকে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। অভিযোগ, তাঁরা অধিবেশনের সময় বারবার বাধা দেন এবং সভাপতির দিকে কাগজ ছোড়েন।

সাসপেন্ড হওয়া সাংসদরা হলেন—অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, মানিকম টাগোর, গুরজিত সিং আউজলা, হিবি ইডেন, সি কিরণ কুমার রেড্ডি, প্রশান্ত যাদোরাও পাডোলে, এস ভেঙ্কটেশ ও ডিন কুরিয়াকোস। সকলেই কংগ্রেস দলের সদস্য।

যেখানে বিরোধী দলগুলি এই সাসপেনশনকে অতিরিক্ত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রসূত বলে বর্ণনা করছে, সেখানে সরকার পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে—সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কক্ষের মর্যাদা রক্ষা করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু কয়েকজন সাংসদের সাসপেনশন ঘিরে নয়—বরং সংসদের ভেতরে বিরোধী কণ্ঠস্বরের পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে কি না, সেই বড় প্রশ্নটাই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।