আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বুধবার যা করেছেন, তা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। বাংলার সাধারণ মানুষ বলছেন ঘটনা ঐতিহাসিক। গত সোমবার থেকেই মূলত দিল্লিতে এসআইআই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন মমতা। জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট ইস্যুতে বিরোধী জোটকে এক ছাতার তলায় আনার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।
বুধবার দেখা গেল, মমতা ব্যানার্জির প্রতি বিরোধী দলগুলির সমর্থন। সপা প্রধান অখিলেশ যাদব, দিনকয়েক আগেই ঘুরে গিয়েছেন বাংলা থেকে। একাধিকবার নানা ইস্যুতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বুধবার মমতা ব্যানার্জির সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে অখিলেশ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চললে, প্রয়োজনে ভূমিকা বদলে ফেলতে হয়।
অন্যদিকে শিবসেনা উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীর পোস্টেও মমতা-প্রশস্তি। প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন-
'তিনি রাজ্যের মানুষের জন্য লড়াই করেন
তিনি মানুষের জন্য রাস্তায় নেমে লড়াই করেন
তিনি আদালতে তাঁর মানুষের জন্য লড়াই করেন
একজন নেতা এভাবেই নেতৃত্ব দেন!
@MamataOfficial'
স্বাভাবিকভাবেই এই দুই পোস্টে জল্পনা বাড়ছে, তাহলে কি এই ইমপিচমেন্ট ইস্যুতে এক হচ্ছে বিরোধীরা। অন্যদিকে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, কেসি বেণুগোপাল জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশের বিরোধী দলগুলি একসঙ্গে ইমইচমেন্ট প্রস্তাব আনবে। যদিও এই প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর মতামত সামনে আসেনি।
ইমপিচমেন্ট। মঙ্গলবার থেকে এই ইস্যুতে সুর চড়ছে দেশের রাজনীতিতে। বুধবার যেন জল্পনা আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিলেন খোদ অভিষেক। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এর আগে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছেন, এসআইআর ইস্যুতে বাংলার পরিস্থিতি বোঝার কথা বলেছেন। বলেছেন। পরিস্থিতি বিচারে কলকাতা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সাক্ষাৎ করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গেও। যদিও ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে মমতা ব্যানার্জি স্পষ্টতই জানিয়েছিলেন,বৈঠকে তাঁদের অপমান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় ইমপিচমেন্টের। মঙ্গলবার তিনি বলেন, 'কোনও বিষয় যদি সত্যি হয়, জেনুইন হয়, জনতার জন্য হয়, আমিও চাই ইমপিচমেন্ট হোক। আমাদের নম্বর নেই, কিন্তু ইমপিচমেন্ট হতেই পারে।' এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্তদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন। জিজ্ঞাসা করেন, তাঁরা চান কি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এসআইআর হোক।
মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর প্রসঙ্গ তুলে মমতা ব্যানার্জিকে প্রশ্ন করা হয়, রাহুল গান্ধী বারবার সিইসি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। মমতা ব্যানার্জি কী ভাবছেন, ভবিষ্যতে কি কোনও আইন আনার কথা ভাবছেন তিনি? মমতা তাঁর উত্তরেই বলেন, 'যদি কোনও বিষয় সঠিক হয়, জনগণের জন্য হয় তাহলে আমিও চাই ইমপিচমেন্ট হোক। নম্বর আমাদের নেই, কিন্তু ইমপিচমেন্ট হতেই পারে। রেকর্ড তো হয়ে যাবে।'শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে যেন বিরোধী জোটকে ফের একবার এক ছাতার তলার ইঙ্গিত মিলেছিল মমতার কথায়। মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, 'যদি এরকম কিছু করা হয়, আমিও আমার দলের সাংসদ দের সঙ্গে আলোচনা করব। যখনই সাধারণের জন্য কিছু করতে হয়, আমরা একজোট হয়েই কাজ করি।' মঙ্গলবার তাঁর দলের দুই কক্ষের সাংসদের নিয়ে মমতা ব্যানার্জি বৈঠক করেছেন বলেও খবর সূত্রের।
