আজকাল ওয়েবডেস্ক: তাড়া করেছিল মৌমাছির দল। দেখেই শিশুদের বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিলেন। তাতেই ঘটল অঘটন। মৌমাছির হামলা থেকে ২০ শিশুকে বাঁচিয়ে, মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের নিমুচ জেলায়। জানা গেছে, মৃত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর নাম, কাঞ্চন বাই মেঘওয়াল। আচমকাই মৌমাছির হামলা থেকে ২০ জন শিশুকে রক্ষা করেছিলেন তিনি। একদল মৌমাছির কামড়েই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে কাঞ্চনের।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে রানপুর গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে। সেদিন বিকেলে উঠোনেই রোজের মতো খেলাধুলা করছিল একদল শিশু। হঠাৎ একঝাঁক মৌমাছি ওই শিশুদের দিকে তেড়ে আসে। তা দেখেই ছুটে আসেন কাঞ্চন। শিশুদের কোনও মতে আগলে রাখেন, যাতে কাউকেই মৌমাছি হুল ফুটিয়ে দিতে না পারে। মৌমাছির কামড়েই মৃত্যু হয়েছে ৪০ বছরের ওই কর্মীর।
জানা গেছে, আশেপাশের মাদুর, চাদর দিয়ে ২০ জন শিশুকে ঢেকে দিয়েছিলেন তিনি। যার জেরে শিশুদের গায়ে মৌমাছি আর হুল ফোটাতে পারেনি। একদল মৌমাছি সেই সময় শুধুমাত্র কাঞ্চনকেই ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। গ্রামবাসীরা তাঁকে বাঁচানোর আগেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন কাঞ্চন। তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঞ্চনের স্বামী পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তিনি বহু বছর ধরে শয্যাশায়ী। তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরিবারে তিনিই একা উপার্জন করতেন। মধ্যপ্রদেশে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা মাসে চার হাজার ২৫০ টাকা বেতন পান।
বর্তমানে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন গ্রামের লোকজন। তাঁদের সন্তানদের সেখানে পাঠাতে সাহস দেখাচ্ছেন না তাঁরা। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পাশের গাছেই ওই মৌচাক। সেখানেই আছে জলের কল। ফলে জল আনতেও ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা। অবিলম্বে ওই মৌচাক সরানো এবং কাঞ্চনবাইয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য করার দাবিও করেছেন তাঁরা।
