আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাড়ির ভেতর তল্লাশি চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। অথচ তন্নতন্ন করে খুঁজেও দেখা নেই কিশোরীর। অবশেষে সন্দেহ হওয়ায় ঘরের কোণে রাখা একটি কাঠের বাক্স খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের! দেখা গেল, কাঠের ওই ছোটো বাক্সের ভিতরেই কুঁকড়ে পড়ে রয়েছে ১৩ বছরের এক নাবালিকা। গুয়াহাটিতে সম্প্রতি হাড়হিম কাণ্ড। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় জেলা শ্রম টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা এক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ওই বাড়িতে হানা দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে এক নাবালিকাকে পরিচারিকার কাজে আটকে রাখা হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, তাকে দিনের পর দিন অত্যাচার করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযানে নামেন আধিকারিকরা। যদিও বাড়ির মালকিন আরিনা লস্কর খাতুন শুরুতে বুক ঠুকে দাবি করেন, ওই কিশোরী এখানে নেই। দিন কয়েক আগেই তাকে নিয়ে গিয়েছে তার বাবা।
কিন্তু আরিনার কথায় সন্দেহ হয় আধিকারিকদের। ঘরে তল্লাশি চালাতে গেলে তিনি বাধা দিয়ে দাবি করেন, ভিতরে শিশু ঘুমাচ্ছে। সেই বাধা উড়িয়ে ঘরে ঢুকে খাটের বাক্স খুলতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। দেখা যায়, ধরা পড়ার ভয়ে ওই কিশোরীকে জ্যান্ত অবস্থায় ছোটো কাঠের বাক্সের ভিতর পুরে দিয়েছিলেন মালকিন। প্রায় ২৫ মিনিট ওই দমবন্ধ করা অবস্থায় ভিতরে পড়ে ছিল সে। জানা গিয়েছে, উদ্ধারের সময় মেয়েটি এতটাই দুর্বল ছিল যে, ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না। একটু জল খেয়ে ধাতস্থ হতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।
পুলিশি জেরায় ওই নাবালিকা জানিয়েছে, গত ছয় বছর ধরে সে ওই বাড়িতে কাজ করছে। প্রায় দিনই তার ওপর অমানবিক মারধর চালানো হতো। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আপাতত ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে।
অন্যদিকে, ওড়িশার কান্ধমাল জেলায় এক কিশোরীকে অপহরণ করে যৌন হেনস্থা। সারা রাত ঘন জঙ্গলে একা কাটায় মেয়েটি৷ এই ঘটনার জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘরছাড়া হয়ে সারা রাত একা জঙ্গলে কাটিয়ে অবশেষে কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে ফিরেছে ওই নাবালিকা। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও অন্যজন এখনও পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে৷
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বেলঘর থানা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, গত রবিবার বিকেলে গ্রামেরই এক খালের ধারে গিয়েছিল বছর চোদ্দোর ওই কিশোরী। অভিযোগ, সেখান থেকেই তাকে তুলে নিয়ে যায় গ্রামের দুই যুবক। তাকে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ওই নাবালিকার ওপর চড়াও হয়ে শ্লীলতাহানি করে। সে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনার ভিডিও তুলে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখায় অভিযুক্তরা। শেষে তার মুখ বেঁধে জঙ্গলেই ফেলে রেখে চম্পট দেয় তারা।
ভয় আর হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে সারা রাত একা জঙ্গলেই পড়ে ছিল মেয়েটি। সোমবার ভোরে কোনওরকমে পথ চিনে সে নিজের গ্রামে ফেরে। পরিবারের কাছে সবটা জানানোর পর তাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে বেলঘর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
বালিগুড়ার এসডিপিও শুভম ভোসলে জানিয়েছেন, “দুই যুবক ওই নাবালিকাকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে হেনস্থা করে। তবে ধর্ষণের চেষ্টা সফল না হওয়ায় তাকে সেখানেই ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। সারা রাত কিশোরীটি ওই ঘন জঙ্গলে কাটিয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্য জনের খোঁজ চলছে।”
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
