আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের সাতনায় এক বিউটি পার্লার মালকিনকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পুলকিত ট্যান্ডন নাগোদ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি। গত মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক দলও।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২৫ বছরের ওই যুবতীর পার্লারটি বিজেপি নেতা পুলকিতের গুদামের পাশেই। অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে পুলকিতের কর্মচারী আর কে নামদেব ওই যুবতীকে ফোন করে জানান যে, পার্লারে এক গ্রাহক অপেক্ষা করছেন। সেই কথা শুনে তিনি গুদামে পৌঁছলে দেখেন, সেখানে কোনও গ্রাহক নেই। উল্টে বিজেপি নেতা মদ্যপান করছেন।
নির্যাতিতার দাবি, পরিস্থিতি খারাপ দেখে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে পুলকিত তাঁর হাত ধরে টানেন এবং শ্লীলতাহানি করেন। চিৎকার শুনে যুবতীর মা ও দাদা সেখানে ছুটে আসেন। অভিযোগ, তাঁর দাদা মোবাইলে ঘটনার ভিডিও করতে গেলে পুলকিত তাঁর ফোনটি কেড়ে নিয়ে আছড়ে ভেঙে ফেলেন। বাধা দিতে গেলে তাঁর দিকে লক্ষ্য করে মদের বোতল ছোঁড়া হয়। এমনকী বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। লোহার রডের ওপর পড়ে গিয়ে তিনি ও তাঁর মা গুরুতর আহত হন।
প্রথমে পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল৷ এর পরে বুধবার সকালে সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ভিডিও ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জনরোষের মুখে পড়ে পুলকিত ও তাঁর কর্মচারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এদিকে দলের ভাবমূর্তি বাঁচাতে অভিযুক্ত নেতাকে শোকজ করেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন সহবাস। এমনকী বার বার গর্ভপাতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠল অন্ধ্রপ্রদেশের জনসেনা বিধায়ক আরাভা শ্রীধরের বিরুদ্ধে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেলওয়ে কোডুরু কেন্দ্রের ওই বিধায়ক। বিধায়কের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগে চরম শোরগোল।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী একজন সরকারি কর্মী। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর শ্রীধরের কুনজর পড়ে। শুরু হয় সহবাস। তাঁর দাবি, গাড়িতে করে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রথমবার জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করেন অভিযুক্ত বিধায়ক। মহিলার অভিযোগ, গত এক বছরে তাঁকে পাঁচ বার গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য তাঁর স্বামীকে ফোন করে বারবার হুমকি দেওয়া হত বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ওই ভিডিওতে নির্যাতিতা বলেন, "ও বলেছিল গর্ভপাত করালে তবেই আমার পরিবার আর চাকরি বাঁচবে। আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে ভয় দেখানো হয়। পরে আশ্বাস দেয় যে স্বামীকে ডিভোর্স দিলে ও আমাকে বিয়ে করবে।"
পাল্টা ভিডিও বার্তায় বিধায়ক শ্রীধর জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, "আমি পবন কল্যাণের আদর্শে মানুষের কাজ করছি। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই চক্রান্ত।" তিনি আরও জানান যে, উল্টে গত ছ’মাস ধরে তিনিই হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং এই নিয়ে তাঁর মা পুলিশে অভিযোগও জানিয়েছেন।
গোটা ঘটনায় পুলিশের তরফে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে অন্ধ্রপ্রদেশ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রায়পতি শৈলজা নিজে উদ্যোগী হয়ে অভিযোগকারিণী মহিলার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে।
