আজকাল ওয়েবডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা টানটান। অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের মাঝেই সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিল পাকিস্তান সরকার। প্রতি শুক্রবার তেলের মূল্য পর্যালোচনার পর, দেশটিতে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে হাই-স্পিড ডিজেলের দাম এবার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ১২ জুন পর্যন্ত এই নতুন মূল্য কার্যকর থাকবে।
জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকেই পাকিস্তান সরকার প্রতি শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করে আসছে। গত সপ্তাহেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় লিটার প্রতি ২২ টাকা কমানো হয়েছিল।
পেট্রোল মূলত ব্যক্তিগত গাড়ি, ছোট গাড়ি, রিকশা এবং মোটরসাইকেলের মতো যানবাহনে ব্যবহৃত হয়, যা সরাসরি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের পকেটে প্রভাব ফেলে। বর্তমানে লিটার প্রতি ৪ টাকা কমার পর পেট্রোলের দাম ৩৮১.৭৮ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭৭.৭৯ টাকা। এই নিয়ে পেট্রোলের দামে টানা চতুর্থবার পতন ঘটল। এর ফলে গত চার সপ্তাহে পেট্রোলের দাম কমেছে মোট প্রায় ৩৭ টাকা। বর্তমানে পেট্রোলের ওপর পেট্রোলিয়াম লেভি, কাস্টমস ডিউটি এবং ক্লাইমেট লেভি মিলিয়ে লিটার প্রতি মোট ১২৫ টাকা কর ধার্য রয়েছে।
তবে অপরিবর্তিত রয়েছে ডিজেলের দাম। পণ্য পরিবহনের প্রধান জ্বালানি হওয়ায় হাই-স্পিড ডিজেলকে পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আগামী এক সপ্তাহের জন্য ডিজেলের এক্স-ডিপো মূল্য প্রতি লিটার ৩৮০.৭৮ টাকাই বহাল থাকছে। গত ১০ এপ্রিল পাকিস্তানে ডিজেলের দাম রেকর্ড ৫২০.৩৫ টাকায় পৌঁছেছিল। সেই তুলনায় বর্তমান দাম লিটার প্রতি প্রায় ১৪০ টাকারও বেশি কম। পাকিস্তান সরকার বর্তমানে কাস্টমস ডিউটি, পেট্রোলিয়াম লেভি এবং ক্লাইমেট সাপোর্ট লেভি-বাবদ ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ১০০ টাকা কর আদায় করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে কেরোসিন তেলের ওপর প্রতি লিটারে প্রায় ২১ টাকা এবং লাইট ডিজেল অয়েলের ওপর প্রায় ১৬ টাকা পেট্রোলিয়াম কর নেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানে জ্বালানি খাতের সিংহভাগ রাজস্ব আসে পেট্রোল এবং হাই-স্পিড ডিজেল থেকে। দেশটিতে প্রতি মাসে প্রায় ৭ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টন পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি হয়। যেখানে কেরোসিন তেলের মাসিক চাহিদা মাত্র ১০ হাজার টন। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও পেট্রোলের দামের এই ধারাবাহিক হ্রাস পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের দৈনিক যাতায়াতের খরচ কিছুটা হলেও কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।















