আজকাল ওয়েবডেস্ক: নমো ভারত ট্রেনের প্রিমিয়াম কোচে প্রকাশ্যে অশ্লীল কার্যকলাপের অভিযোগে গাজিয়াবাদ পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। একইসঙ্গে, ওই ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার অভিযোগে ট্রেনের এক অপারেটরের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত অপারেটরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে। সেদিন নমো ভারত ট্রেনটি দুহাই থেকে মুরাদনগর যাওয়ার পথে ছিল। অভিযোগ, ট্রেনের প্রিমিয়াম কোচ নম্বর ২৩-এ এক তরুণ ও এক তরুণী প্রকাশ্যে যৌনতায়  লিপ্ত হন, যা একটি জনসমক্ষে চলাচলকারী পরিবহণ ব্যবস্থায় গুরুতর শালীনতা লঙ্ঘনের সামিল।

এই ঘটনায় মুরাদনগর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী হলেন দুষ্যন্ত কুমার, যিনি দিল্লি–গাজিয়াবাদ–মিরাট রেল ট্রানজিট সিস্টেম (DBRRTS)-এর নিরাপত্তা প্রধান এবং ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (NCRTC)-এর অধীনে নমো ভারত ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।

পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় ওই তরুণ-তরুণীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita), ২০২৩-এর ধারা ২৯৬ (অশ্লীল কার্যকলাপ) এবং ধারা ৭৭ (জনসমক্ষে শালীনতা ও মর্যাদা লঙ্ঘন)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তে আরও একটি গুরুতর বিষয় সামনে আসে। জানা যায়, ওই সময় ট্রেন অপারেটর ঋষভ কর্তব্যরত অবস্থায় অপারেটর কেবিনে বসে নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ওই অশ্লীল দৃশ্যের ভিডিও রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্তব্যরত অবস্থায় অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করা সংস্থার নিয়মভঙ্গ এবং একইসঙ্গে আইনত অপরাধ। এই ঘটনার পর NCRTC-এর অধীনে পরিচালনাকারী সংস্থা ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অভিযুক্ত অপারেটর ঋষভকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।

এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি (সংশোধনী) আইন, ২০০৮-এর ধারা ৬৭ (অশ্লীল বিষয়বস্তু ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার)-এর অধীনে পৃথক একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

গাজিয়াবাদ পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানান, “দুটি মামলাই গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজ, মোবাইল ডিভাইস এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নামো ভারত ট্রেনের নিরাপত্তা, যাত্রী আচরণবিধি এবং কর্মীদের দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। NCRTC সূত্রে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নজরদারি ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে।