আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পরেই সিদ্দারামাইয়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না। কিন্তু, জাতীয় রাজনীতির পরিবর্তে রাজ্য রাজনীতিতেই তাঁর মনোযোগ থাকবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা জানান, দলের হাইকমান্ডের তরফে রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর ইঙ্গিত, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ পদ ছেড়ে দেওয়ার পরেও এখনও তিনি কর্ণাটকের রাজনৈতিক অঙ্গনেই যুক্ত থাকতে চান।
রাজ্যসভার ভূমিকার সম্ভাবনা নাকচ করলেন সিদ্দারামাইয়া-
সিদ্দারামাইয়া বলেন, "আমাকে রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছি যে তা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার আগ্রহ রাজ্য রাজনীতিতেই। মানুষ আমাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছে, যার মধ্যে আরও দু'বছর বাকি আছে। আমি এখানেই থাকব।"
ধারণা করা হচ্ছিল যে, কর্ণাটকে নেতৃত্বের পালাবদলের পর কংগ্রেস হাইকমান্ড সিদ্দারামাইয়াকে রাজ্যসভায় পাঠাবে। কিন্তু, বর্ষীয়ান মন্তব্যের মধ্য দিয়ে সেই জল্পনার অবসান ঘটল।
সিদ্দারামাইয়ার কুর্সিতে ডিকে শিবকুমার:
দিনের শুরুতেই সিদ্দারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। কারণ হিসেবে তিনি কংগ্রেস হাইকমান্ডের নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন। তিনি কর্ণাটকের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলতের বিশেষ সচিব প্রভু শঙ্করের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পেশ করেন। রাজ্যপাল বর্তমানে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন। তাঁর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজ্যে ফেরার কথা।
রাজভবন থেকে বেরিয়ে সিদ্দারামাইয়া বলেন, "আমি রাজ্যপালের দপ্তরে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। রাজ্যপাল বর্তমানে এখানে নেই। তিনি আজ রাতেই ফিরে আসছেন। তাই আমি তাঁর দপ্তরেই পদত্যাগপত্রটি জমা দিয়েছি।" বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, তিনি বারবারই বলে এসেছেন- কংগ্রেস হাইকমান্ড যখনই নির্দেশ দেবে, তিনি তখনই পদত্যাগ করবেন। আর তাঁর বর্তমান পদত্যাগটিও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই সম্পন্ন হয়েছে।
পদত্যাগের ঘোষণার পর আবেগঘন বিদায়
পদত্যাগের ঘোষণার সময় সত্তরোর্ধ্ব এই নেতাকে বেশ আবেগপ্রবণ দেখাচ্ছিল। নিজের রাজনৈতিক যাত্রার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, কখনওই কল্পনা করেননি যে একদিন তিনি রাজ্যের নেতৃত্বের আসনে বসবেন। তিনি তাঁরই দলের আরেক প্রবীণ নেতা ডিকে শিবকুমারের জন্য রাজ্যের শীর্ষ পদটি ছেড়ে দিলেন। রাজ্যপালের দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন যে, তিনি একটি গ্রাম্য পটভূমি থেকে উঠে এসেছেন এবং রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।















