আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জেলবন্দি কর্মী উমর খালিদের কাছে একটি হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়েছেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে খালিদের বাবা-মা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই তাঁদের হাতে উমরকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠি তুলে দেওয়া হয়। খালিদকে উদ্দেশ্য করে লেখা সেই বার্তায় মামদানি লিখেন, 'প্রিয় উমর, তিক্ততা নিয়ে তোমার কথাগুলো আমি প্রায়ই ভাবি, এবং এই তিক্ততাকে নিজের ওপর চেপে বসতে না দেওয়ার গুরুত্ব নিয়েও ভাবি। তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে ভাল লেগেছে। আমরা সবাই তোমার কথা ভাবছি।”
বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হিসাবে শপথ নিয়েছন জোহরান মামদানি। ওই দিনই এক্স-পোস্টে চিঠিটির একটি ছবি শেয়ার করেছেন খালিদের সঙ্গী বনজ্যোৎস্না লাহিড়ী।
বনজ্যোৎস্না লাহিড়ী জানান, খালিদের বাবা-মা সাহিবা খানম এবং সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াস একটি পারিবারিক বিয়ের আগে তাঁদের মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "তাঁরা আমেরিকায় মামদানি এবং আরও কয়েকজনের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুটা সময় কাটান। তখনই তিনি এই চিঠিটি লেখেন।"
দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতীছাত্র উমর খালিদ ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হন। অভিযোগ ওঠে, ওই দাঙ্গার সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। যদিও একটি মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে মুক্তি দিয়েছিল, তবে অন্য একটি মামলায় এখনও তিনি জেলবন্দি। একাধিকবার তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে।
বোনের বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য ডিসেম্বরে তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছিল।
লাহিড়ী জানান, আদালতের শর্তের কারণে তিনি জামিনের সময় বাড়িতেই ছিলেন এবং জেলে ফিরে যাওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান।
২০২৩ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হোয়াইট হাউস সফরের সময় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে, জেলে বসে লেখা উমর খালিদের ডায়েরির অংশ পাঠ করে শোনান মামদানি।
এদিকে, মার্কিন কংগ্রেস সদস্য জেমস পি ম্যাকগভর্ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রাকে চিঠি লিখে ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার সঙ্গে সম্পর্কিত মামলায় অভিযুক্তদের বিচার-পূর্ব দীর্ঘ বন্দিদশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিজের চিঠিতে ম্যাকগভর্ন খালিদের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন যে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর স্বাধীন তদন্তে খালিদকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত করার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি, এবং তিনি সময়মতো বিচার ও নির্দোষ সম্পর্কিত অনুমান নিয়ে আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির অধীনে ভারতের বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করেছেন।
