আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসামের কাছাড় জেলায় পাইলাপুল এলাকায় দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একটি ১০ ফুট উঁচু মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধী দল কংগ্রেস শাসক বিজেপির ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় কংগ্রেস নেতা প্রদীপ কুমার দে জানান, মঙ্গলবার সকালে এলাকার কয়েকজন প্রাতঃভ্রমণকারী প্রথম মূর্তিটি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে কংগ্রেস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে জানান। দে-র দাবি, প্রথমে পুলিশ জানায় যে মূর্তিটি হয়তো নিজে থেকেই ভেঙে পড়েছে। কিন্তু পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি দল পরিকল্পিতভাবে একটি এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে মূর্তিটি ভেঙে ফেলে। “এটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পড়ে যাওয়ার ঘটনা নয়, বরং সংগঠিত ভাঙচুর,” বলেন দে।
২০০০ সালে নেহরু কলেজের সামনে এই মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৫ সালে। মূর্তি উন্মোচনের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেব এবং আসামের প্রাক্তন মন্ত্রী দীনেশ প্রসাদ গোয়ালা-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। প্রদীপ দে জানান, “১৯৫৩ সালে একই এলাকায় নেহরুর নামে একটি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই অঞ্চলে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে।”
ঘটনার প্রতিবাদে কংগ্রেস থানায় এফআইআর দায়ের করেছে। স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক শঙ্কর দয়াল জানান, ইতিমধ্যে একটি মামলা রুজু হয়েছে এবং ভাঙচুরে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। “আমাদের কাছে কিছু ডিজিটাল প্রমাণ রয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। চিহ্নিত হলেই গ্রেপ্তার করা হবে,” বলেন তিনি।
প্রাক্তন কংগ্রেস জেলা সভাপতি অভিজিৎ পাল এই ঘটনাকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, “নেহরু ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং আধুনিক ভারতের স্থপতি। তাঁর মূর্তি ভাঙা অত্যন্ত লজ্জাজনক। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।”
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবউর রহমান-এর একাধিক মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। “এই দুই ঘটনার মধ্যে মানসিকতার মিল রয়েছে,” দাবি করেন পাল।
পাইলাপুল এলাকা বিজেপি বিধায়ক কৌশিক রাই-র বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। তিনি রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যও। কিন্তু এই ঘটনায় তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। অভিজিৎ পাল বলেন, “এত বড় একটি ঘটনায় শাসকদলের জনপ্রতিনিধির নীরবতা দুঃখজনক। আমরা আশা করেছিলাম তিনি প্রকাশ্যে নিন্দা জানাবেন।”
যদিও কৌশিক রাই ফোনে সাড়া দেননি এবং অন্যান্য বিজেপি নেতারাও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। ঘটনাটি শুধু একটি মূর্তি ভাঙচুরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি ইতিহাস, স্মৃতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রশ্নকেও সামনে এনে দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার দিকেই এখন নজর আসামবাসীর।
