আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার সংসদে নারী সংরক্ষণ আইন বা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নিয়ে বিরোধীদের প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জে করে বসলেন। তাঁর চ্যালেঞ্জ— এই আইনের বিরোধিতা করলে তার ফল ভোগ করতে হবে, কারণ দেশের ‘নারী শক্তি’ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যারা ‘নারীর অধিকারের বিরোধিতা’ করেছে, ইতিহাস তাদের প্রতি সদয় হয়নি।
৩৩ শতাংশ নারী সংরক্ষণ দ্রুত বাস্তবায়নের পথ প্রশস্তকারী তিনটি বিল কেন্দ্র সংসদে পেশ করার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে উস্কানি মিশিয়ে বক্তৃতা রাখে তিনি। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, নারীরা সব সাংসদদের উপর নজর রাখছেন এবং ২০২৩ সালে সংসদে পাস হওয়া এই আইনটি আটকে দেওয়ার ‘দুষ্কর্ম’ তারা ভুলবেন না।
মোদি বলেন, “আমাদের সদিচ্ছার কোনও অসতাচরণ আমরা কখনও ক্ষমা করব না। আজ গোটা দেশ, বিশেষ করে নারীশক্তি, আমাদের সিদ্ধান্তের দিকে অবশ্যই নজর রাখবে, কিন্তু সিদ্ধান্তের চেয়েও বেশি নজর রাখবে আমাদের অভিপ্রায়ের দিকে।” তিনি বলেন, “যারা নারীদের এই অধিকার দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল, এই দেশের নারীরা তাদের ক্ষমা করেনি। তাদের এর পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।”
গত দশকে নির্বাচনগুলি দেখিয়েছে যে, নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণে নারী ভোটাররাই মূল ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে দলগুলি তাঁদের মন জয় করতে এবং নারীকেন্দ্রিক প্রকল্প চালু করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এ বিষয়ে ভালভাবেই অবগত। আইনটি পাসের পথে বাধা দিতে বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ জানানোর সময় তিনি এই বিষয়টি মাথায় রেখেছিলেন। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, সাংসদদের এই ‘ভ্রম’ থাকা উচিত নয় যে ‘আমরা এই দেশের নারীদের কিছু দিচ্ছি’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি তাদের অধিকার’।
বিরোধীদের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি সকলের সমর্থনও চেয়েছেন মোদি। তিনি আচমকা সুর নরম দাবি করেন আইন বাস্তবায়নের জন্য তিনি কোনও কৃতিত্ব নিতে চান না। তিনি এমনকি আইনটি পাস হওয়ার পর বিল পাসের কৃতিত্ব দিয়ে সবার ছবি লাগানোর প্রস্তাবও দেন।
মোদি আরও বলেন, “এটা খুবই স্পষ্ট যে, আপনারা এই বিলের বিরোধিতা করলে আমি রাজনৈতিক সুবিধা পাব। কিন্তু আমরা যদি একজোট হয়ে চলি, তাহলে এতে কারোরই লাভ হবে না।” তিনি বলেন, “আজএটা খোলাখুলি অস্বীকার করার সাহস আমাদের নেই, তাই অজুহাত খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু এখন আর নারীদের ধোঁকা দেওয়া যায় না।”
নারী সংরক্ষণের বিষয়টিকে একাধারে নৈতিক বাধ্যবাধকতা ও রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরে মোদি বিরোধীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন। বিরোধীদের কাছে এখন দু’টি পথ— এক, হয় আইনটিকে সমর্থন করতে হবে। দুই, এর বিরোধিতা করে নারী ভোটারদের রোষের মুখে পড়ার ঝুঁকি নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই আইনটি তৈরি হতে ইতিমধ্যেই ৩০ বছর দেরি হয়ে গিয়েছে। ইতিহাস প্রমাণ দেয় যে মোদি পুরোপুরি ভুল করেননি। এর আগে সংসদে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার চারবার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই ধরনের একটি বিল সর্বপ্রথম ১৯৯৬ সালে এইচ ডি দেবেগৌড়া সরকার উত্থাপন করেছিল। বিলটি একটি কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু কংগ্রেস সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দেবেগৌড়া সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। ফলে বিলটি বাতিল হয়ে যায়। ১৯৯৮ এবং ১৯৯৯ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বিলটি নিয়ে ফের নাড়াচাড়া শুরু করে। উভয় ক্ষেত্রেই বিলটি আর এগোতে পারেনি। বাজপেয়ী ২০০৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন। মনমোহন সিং সরকার রাজ্যসভায় বিলটি পাস করাতে সক্ষম হলেও, তা লোকসভায় আনতে পারেনি। ইউপিএ সরকারের পতনের পর ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিলটি আবারও বাতিল হয়ে যায়।
















