আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে পৌঁছতেই ভারতের জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছে কেন্দ্র। বিশেষ করে ইরানের সম্ভাব্যভাবে হরমুজ প্রণালী অবরোধের আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র সরকার।
এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল—জ্বালানি ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা মজবুত রাখা যায় এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, তা পর্যালোচনা করা।
কয়েক দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায়। তিনি রাজ্যগুলিকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছাতে কোনও বাধা না আসে। তাঁর কথায়, “অবিচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে রাজ্যগুলিকে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে।”
এই প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ছয় বছর আগের কোভিড মহামারির অভিজ্ঞতা। সেই সময় কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রচেষ্টায় যে ‘টিম ইন্ডিয়া’ মডেল গড়ে উঠেছিল, তা আজকের এই সঙ্কট মোকাবিলায়ও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “করোনা কালে যেমন একসঙ্গে লড়েছি, এবারও সেই ঐক্যবদ্ধ মনোভাব নিয়েই এগোতে হবে” ।
২০২০ সালের ২০ মার্চ প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী, যা ছিল দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার মাত্র চার দিন আগে। এরপর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় জোরদার করা হয়। সংক্রমণ রোধ, টেস্টিং, চিকিৎসা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই এই সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
পরবর্তীতে যখন ‘আনলক’ প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখনও কেন্দ্র রাজ্যগুলির মতামতের ভিত্তিতেই ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সকল রাজ্যে দ্রুত ও মসৃণ টিকা বিতরণের ওপর জোর দেন। এমনকি ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকল নাগরিককে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্র নিজে নেয়, যাতে রাজ্যগুলির আর্থিক চাপ কমে।
প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, “এই লড়াইয়ে দলগত প্রচেষ্টাই সাফল্যের চাবিকাঠি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারতের ফেডারেল কাঠামো এই ধরনের সঙ্কটে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে—যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা বাস্তবায়ন করে।
বর্তমান পশ্চিম এশিয়া সঙ্কটের মুখে আবারও সেই ‘টিম ইন্ডিয়া’ ধারণাকেই সামনে আনছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ভারতের শক্তি তার সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামোতে—যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য মিলেই জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে।















