আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহিলা সংরক্ষণ বিল লোকসভায় কার্যকর না হতেই বিরাট ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন রাতারাতি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে বসে পড়লেন মোদি।
বিষয় একটাই, মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করতে বাধা দেওয়া। ভাষণের শুরু থেকেই কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি অর্থাৎ গোটা ইন্ডিয়া জোটকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'মহিলা সংরক্ষণ বিল সংশোধনের ক্ষেত্রে বাধা দিয়ে কংগ্রেস, তৃণমূল সহ বিরোধী দলগুলি অন্যায় করেছে। এর ফল ওদের ভুগতে হবে।' তিনি আরও বলেন, 'আমাদের দেশের মহিলারা সব ভুলে যেতে পারেন। কিন্তু অপমান ভোলেন না। এর বদলা তাঁরাই নেবেন।'
মোদির বক্তব্য, ভারত স্বাধীন হওয়ার পর বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি কত এগিয়ে গিয়েছে। ভারতবর্ষ এগোতে পারেনি, উন্নতি করতে পারেনি শুধুমাত্র কংগ্রেসের জন্য। কংগ্রেস সবসময় সংশোধনে বাধা দিয়ে এসেছে।'
এদিন ভাষণের শুরুতেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ায় দেশের 'মা ও বোনেদের' কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, 'স্বার্থপর রাজনীতির”'কারণে নারীর অধিকারের 'ভ্রূণহত্যা' করা হয়েছে।
জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেখলাম যখন বিল পাশ হল না বিরোধী দল যেমন কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি. ডিএমকের সাংসদরা তালি দিয়ে, টেবিল বাজিয়ে উল্লাস করছেন। সংসদে যা ঘটেছে, তা শুধু টেবিল চাপড়ানো নয়, বরং মহিলাদের মর্যাদা ও আত্মসম্মানের উপর আঘাত।'
তিনি বলেন, 'দেশের সমস্ত মহিলার কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। কারণ আমরা এই বিলটি পাশ করাতে পারিনি। কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলির স্বার্থপর রাজনীতির কারণে দেশের মহিলারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।'
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী আইন সময়ের দাবি। তাদের ক্ষমতায়ণের লক্ষ্য ছিল বিল। দেশের সব রাজ্যের সমান বৃদ্ধির প্রয়াস ছিল। মহিলাদের আত্মসম্মানে আঘাত দিয়েছে বিরোধীরা।
তারা দেশের নারী শক্তির অপমান করেছে। দেশের সংবিধানের ও নারী শক্তির অপরাধী বিরোধীরা বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেস ও বিরোধীরা দেশকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ তাঁর।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পরিবারতন্ত্র নিয়েও খোঁচা দেন মোদি। নারীদের উত্থান হলে পরিবারতান্ত্রিক দলগুলি বিপদে পড়বে। আর সেই কারণেই এই বিলের বিরোধিতা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সংসদে মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় ভোটাভুটিতে পাশ করাতে পারেনি সরকার।
দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন না-পাওয়ায় সংবিধান সংশোধনী বিল বাতিল হয়ে গিয়েছে। এর পরের দিনই রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধীদের নিশানা করলেন এবং মহিলা বিরোধী বলে তাদের দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।















