আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে এই প্রথম চালু হল ‘মিউজিক্যাল রোড’। মুম্বইয়ের ছত্রপতি সাম্ভাজি মহারাজ কোস্টাল রোডে চালু হওয়া এই অভিনব প্রকল্প ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। কোস্টাল রোডের সুড়ঙ্গ পার হওয়ার পর উত্তরমুখী লেনে নারিম্যান পয়েন্ট থেকে ওরলির মাঝামাঝি প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি বিশেষ রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে গাড়ি চললেই শোনা যাবে জনপ্রিয় গান ‘জয় হো’-র সুর।


মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস ও উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের উপস্থিতিতে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এই বিশেষ রাস্তা নির্মাণ করেছে। রাস্তার নির্দিষ্ট অংশে বিশেষভাবে ডিজাইন করা রাম্বল স্ট্রিপ বা খাঁজ কেটে তা নির্দিষ্ট দূরত্ব ও গভীরতায় বসানো হয়েছে। এই খাঁজগুলিই গাড়ির চাকার সংস্পর্শে এসে তৈরি করে সুরেলা কম্পন।


বিএমসি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিশেষ স্ট্রিপগুলি এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালালে চালক ও যাত্রীরা স্পষ্টভাবে শুনতে পাবেন এ আর রহমানের সুর করা অস্কারজয়ী গান ‘জয় হো’-র সঙ্গীতাংশ। গানটি ড্যানি বয়েলের চলচ্চিত্র স্লামডগ মিলিয়নিয়ার-এ ব্যবহৃত হয়েছিল এবং বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।


কীভাবে কাজ করে এই মিউজিক্যাল রোড? বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির চাকা যখন রাস্তার খাঁজগুলির উপর দিয়ে যায়, তখন চাকা ও রাস্তার পৃষ্ঠের ঘর্ষণে কম্পন সৃষ্টি হয়। এই কম্পন থেকেই তৈরি হয় শব্দতরঙ্গ। খাঁজগুলির ব্যবধান ও গভীরতা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট গতিতে চলার সময় সেই শব্দতরঙ্গ একটি নির্দিষ্ট সুরে রূপ নেয়। ফলে চালকের কানে ভেসে আসে পরিচিত সঙ্গীতের সুর।


নিরাপত্তার দিকটিও মাথায় রাখা হয়েছে। মিউজিক্যাল রোডের আগে ৫০০ মিটার, ১০০ মিটার ও ৬০ মিটার দূরত্বে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে। এমনকি সুড়ঙ্গের ভেতরেও এই নির্দেশিকা দেওয়া রয়েছে, যাতে চালকেরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে পারেন এবং নির্দিষ্ট গতিবেগ বজায় রাখেন।

 


শহরের পরিকাঠামোয় প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগ হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, এটি যেমন পথচলাকে আরও আনন্দদায়ক করবে, তেমনই নির্দিষ্ট গতিবেগ বজায় রাখতেও চালকদের উৎসাহিত করবে। মুম্বইয়ের এই ‘মিউজিক্যাল রোড’ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য শহরের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।